এক স্বপ্ন জয়ের আখ্যান
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৪, ১৯:৪৩
প্রতিবন্ধী হয়েও থেমে থাকেননি মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ভবেরপাড়া গ্রামের নাসিরউদ্দিন। নাসিরউদ্দিন সোনালী ব্যাংকে চাকরি করছেন। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর কোর্ট বিল্ডিং শাখায় অফিসার পদে কমর্রত। আর মাত্র দুই বছর পরই অবসরে যাচ্ছেন তিনি। নাসিরউদ্দিন যেমন অফিসের কাজে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন তেমনি সংসারজীবনেও একজন সফল মানুষ।
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়া গ্রামের মরহুম পানু শেখের চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে বড় নাসিরউদ্দিন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই তিনি পোলিও রোগে আক্রান্ত হন। চিকিত্সায় তিনি জীবন ফিরে পেলেও হারান দুটি পা। পা হারিয়ে বন্ুদের সড়ুলে যাওয়া চেয়ে চেয়ে দেখতেন।
আগ্রহ দেখে তখন সড়ুলে যেতে উত্সাহ দেন ভবেরপাড়া খ্রিষ্টান মিশনের তখনকার ফাদার মারিও, ফাদার মার্তেলো টরগার্তো, ব্রাদার জোসেফ মার্জেল্লসহ মিশনে কমর্রত সবাই।
ওই সময় তার মা শামছুন্নাহারের কোলে চড়ে ভবেরপাড়া খ্রিষ্টান মিশনারি সড়ুলে যেতেন। পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গী হয় তিন চাকার হুইল। এভাবে তিনি বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান মুজিবনগর) মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে এসএসসি পাস করেন।
১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ভবেরপাড়া খ্রিষ্টান মিশনের টাইপিস্ট হিসেবে কমর্রত ছিলেন। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত কারিতাস বাংলাদেশ মুজিবনগরের ভবেরপাড়া শাখায় কমর্রত ছিলেন।
টাইপিস্ট পদে (ছয়জন নিয়োগে) তিনি সোনালী ব্যাংক, যশোর প্রধান অফিসে ৩ হাজার পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেন এবং পরীক্ষায় প্রথম হন। ওই সময় তাকে নিয়োগ দিতে কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ আপত্তি করেন। তবে সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া আঞ্চলিক অফিসের প্রধান বাদশা মিয়ার একান্ত আগ্রহ ও সহযোগিতার কারণে তিনি নিয়োগ লাভ করেন।
১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর কুষ্টিয়া আঞ্চলিক অফিসে কাজে যোগ দেন। মাত্র এক সপ্তাহ পরে তিনি মেহেরপুর প্রধান শাখায় আসেন। ১৯৮৬ সালে তিনি মেহেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি (প্রাইভেট) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০০৬ সালের ৪ সে্বেম্বর ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর কোর্ট বিল্ডিং শাখায় কমর্রত।
সংসারজীবনে তিনি তিন পুত্রসন্তানের জনক। স্ত্রী সবিতা জানান, তাদের বড় ছেলে কামাল হোসেন সুজন বাংলায় মাস্টার্স পাস করে বর্তমানে আকিজ কোম্পানিতে চাকরি করছেন। মেজো ছেলে জামালউদ্দিন এসএসসি পাস করে বর্তমানে ব্যবসা করেন। ছোট ছেলে ফারুকউদ্দিন তপন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত।
মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ায় জমি কিনেছেন এবং দুটি বাড়ি করেছেন। বর্তমানে একটি বাড়িতে বাস করেন এবং তার অন্য বাড়িটি ভাড়া দেওয়া আছে।
অবসরে যাওয়ার পর তার সময় কীভাবে কাটবে- জানতে চাইলে নাসিরউদ্দিন বলেন, চাকরি শেষে তিনি যেকোনো একটি কাজ জোগাড় করে নেবেন।
মানুষ যে কতটা ভালো হতে পারে কিউবায় না গেলে হয়তো বুঝতাম না
মামুনুর রশীদ। মঞ্চের আলো আঁঁধারীতে নিজের সংলাপ দিয়েই আলোকিত-মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। বেরঙা আলোগুলোও তখন হয়ে উঠেছে অন্যরকম। গুণী এই নাট্যজনের নিজের ভাললাগাগুলো...
আপনার বই পড়ার অভ্যাস?
এই বয়স পর্যন্ত অনেক বই পড়া হয়েছে। মনে দাগকাটা বইয়ের সংখ্যাও কম না। অনেক পুরোনো বইয়ের গন্ধ নিতে ইচ্ছে হয় আবার। প্রিয় বইয়ের তালিকায় রয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবী চৌধুরাণী’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পসমগ্র, শেক্সপিয়ারের নাটকসমগ্র। তবে নিকোলাই অস্তভস্কির ‘ইস্পাত’ বইটি বারবার পড়তে ইচ্ছে হয় আমার। বই পড়ার ধৈর্য আমার অনেক। একটানা বই পড়তে পারি।
গান শোনার প্রতি আগ্রহ কেমন?
গান আমাকে মুগ্ধ করে। ভীষণ গানপাগল আমি। অতুলপ্রসাদ ও রজনীকান্তের গান বেশি শোনা হয়। এছাড়াও রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীতও আমি খুব শুনি। এডিনবরা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পণ্ডিত রবীশঙ্করের কনসার্ট ছিল আমার স্মরণীয় একটি মুহূর্ত। আমার ভাগনি ফারজানা শাওন। সেও গান করে। ওর গানও আমার বেশ ভালো লাগে।
প্রিয় ভ্রমণের স্থান?
আমি ঘুরতে খুব ভালোবাসি। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ এসব আমাকে খুব টানে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক দেশ ভ্রমণ করা হয়েছে। ল্যাতিন আমেরিকার দেশগুলো বেশ সুন্দর। তবে কিউবার কথার আমার বিশেষভাবে মনে থাকবে। মানুষ যে কতটা ভালো হতে পারে কিউবায় না গেলে হয়তো বুঝতাম না। তবে যাই হোক নিজের দেশের মতো টান আর কোথাও পাই না। যত দেশেই যাই না কেন দেশে যখন ফিরে আসি এক অন্যরকম শান্তি পাই।
গ্রন্থনা: মোস্তাফিজ মিঠু