শিশুদের বর্ণিল ঈদ

ঈদের আনন্দ বেশি রঙিন হয়ে থাকে শৈশবের সময়টা। সময়ের সাথে সাথে শিশুরা বড় হয় এবং তাদের জীবনের ছোটবেলার সেরা ঈদগুলো রয়ে যায় স্মৃতিতে। শিশুদের ঈদ আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ নতুন পোশাক। তাই তো নান্দনিক ডিজাইনের নতুন পোশাকের বর্ণিল ছোঁয়া মনের মাঝে দোলা দেয়। শিশুদের বর্ণিল পোশাক নিয়ে এবারের মূল ফিচার। লিখেছেন নওশীন শর্মিলী ঈদ মানেই ছোটদের আনন্দ। একটি পরিবারে সবার আগে ঈদ শপিং করা হয় সেই পরিবারের ছোট্ট সদস্যদের জন্য। বড়দের পোশাক কেনা হোক বা না হোক, ছোটদের পোশাক কেনা চাই। অভিভাবকও সবচেয়ে আকর্ষণীয় সুন্দর পোশাকটি কিনে দিতে চান সন্তানকে। আর এবারের ঈদ শপিংয়ের চিত্রেও এর বিন্দুমাত্র ভিন্নতা আমাদের চোখে পড়ছে না। বিভিন্ন শপিংমলগুলোতে শিশুদের পোশাক কেনার জন্য ভিড় লেগেছে। ঈদ বর্ষা মৌসুমে হওয়ায় এখনো গরমের প্রভাব আছে। তাই শিশুদের জন্য বেছে নিতে হবে এমন পোশাক যা গরমেও তারা স্বস্তিতে থাকতে পারে। আর ছোটদের ঈদ পোশাকের কাপড় অবশ্যই আরামদায়ক হতে হবে। তারা ছোটাছুটি করতে পছন্দ করে। সুতরাং তাদের পোশাক যদি আরামদায়ক না হয় তবে বেশ অস্বস্তিতে পড়বে। তাদের ঈদের আনন্দ যেন মাটি না হয় সেদিকে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো বিশেষ নজর রেখেছে। সুতি কাপড়ের বৈচিত্র্যময় ব্যবহার করেছে তারা। কাপড়ের মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে কটন জর্জেট, বেক্সি ভয়েল, ভয়েল ও অ্যান্ডি কটন। বাজার ঘুরে শিশুদের হাজার রকমের পোশাক পাবেন আপনি। তবে কিনবেন কোনটি? পোশাকের মান বিবেচনা করে দিন আপনি আর পছন্দ করতে দিন তাদেরই। মানে ছোটদের। তাদের পছন্দের রং ও কাট দেখেই পোশাক কিনুন। ভুলেও আপনার পছন্দটা শিশুকে চাপিয়ে দেবেন না। এতে শিশুর ঈদ আনন্দ পুরোপুরি মাটি হয়ে যাবে। তবে শিশুটি যদি পছন্দ করার মতো বয়সে উপনীত না হয়, তবে তাকে সহযোগিতা করুন। বছরের সবচেয়ে বড় উত্সবে শিশুর পোশাক যেন উজ্জ্বল রঙের হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। উজ্জ্বল রঙের দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি নজর দিন রঙের রুচিশীল ব্যবহারের দিকেও। নানা রঙের কাপড়ের বাহারি ব্যবহারের সঙ্গে এবার ছোটদের পোশাকে প্রিন্টের খেলাও আপনার চোখে পড়বে। প্রিন্টের মধ্যে স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট রয়েছে। এছাড়া আপনার নজর এড়াবে না রঙিন সুতোর এমব্রয়ডারির কাজও। বৈচিত্র্য আনতে থাকছে রিবনের সৃষ্টিশীল ব্যবহারও। একই সঙ্গে পোশাকে পাখি-প্রজাপতির উপস্থিতিও দারুণ আনন্দ দিতে পারবে ছোটদের। অঞ্জন’স-এর শীর্ষ নির্বাহী ও ফ্যাশন ডিজাইনার শাহীন আহম্মেদ বলেন, ‘পাঞ্জাবি-পাজামা, শার্ট, ফতুয়া, টি-শার্ট, সালোয়ার-কামিজ ওড়না, ফ্রক ও টপস থাকছে এবারের শিশু-কিশোরদের আয়োজনে। বেশ কিছু ডিজাইনে বাবা ও ছেলের পাঞ্জাবি একই ডিজাইনে মা ও মেয়ের সালোয়ার-কামিজ একই ডিজাইনে এবং কিছু ডিজাইন করা হয়েছে বাবা, মা, ভাই, বোন সবার জন্য। পাঞ্জাবি ও সালোয়ার-কামিজ বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক রঙের শিশু-কিশোরদের এই আয়োজনটি ক্রেতাদের অনেক ভালো লাগবে বলে আমরা আশা করছি।’ শিশুদের পোশাক কেনার জন্য আপনার পছন্দের জায়গা হতে পারে দেশীয় ফ্যাশন হাউস আড়ং, অঞ্জন’স, কে-ক্র্যাফট, নগরদোলা, সাদাকালো, বিবিয়ানা ইত্যাদি। একইসঙ্গে নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, মেট্রো শপিংমল, সীমান্ত স্কয়ারসহ রাজধানীর যে কোনো শপিংমলে পাবেন শিশুদের ঈদ পোশাকের বড় রকমের সংগ্রহ। শিশুদের শাড়ি ১৬০০ টাকা থেকে ২২০০ টাকা। বাবা-ছেলের পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে ছেলের পাঞ্জাবির দাম পড়বে ৫০০ টাকা থেকে ৯৯০ টাকা পর্যন্ত। সালোয়ার-কামিজ ৭৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। ফতুয়ার দাম পড়বে ৪৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। ফ্রক কিনতে খরচ করতে হবে ৫০০ টাকা থেকে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত। বিদেশ থেকে আমদানি করা পোশাক কিনতে খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে। শিশুর জন্য তৈরি পোশাকে কী ধরনের ম্যাটারিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে খেয়াল রাখুন। অনেক সময় শিশু পোশাক মুখে নেয়। সুতরাং পোশাকে শিশুর কোমল ত্বকের জন্য ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার করা হয়েছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন। পোশাকের সৌন্দর্যের পাশাপাশি ব্যবহূত ম্যাটারিয়াল কতটা নিরাপদ তাও নিশ্চিত হয়ে নিন। আনন্দ-উত্সবে আমরা যেন শিশুর হাতে সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত একটি নতুন পোশাক তুলে দিতে পারি, এই কামনা হোক সবার।