দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করবে কৃত্রিম আঙুল
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৪, ২০:০৩
শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য নানা ধরনের সুবিধাই নিয়ে এসেছে প্রযুক্তি। ইতোমধ্যেই কৃত্রিম হাত, পা প্রভৃতি অঙ্গ তাদের দৈনন্দিন জীবনের সহায় হয়ে উঠেছে। এবারে কেবল শারীরিকভাবে অক্ষমই নয়, সবার দৈনন্দিন কাজের সুবিধার্থে গবেষক দল উদ্ভাবন করেছেন কৃত্রিম আঙুল। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেট ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একদল গবেষক এমন কৃত্রিম আঙুল উদ্ভাবন করেছেন, যাকে তারা বলছেন মানুষের শরীরের রোবটিক বর্ধিতাংশ। গবেষকরা জানিয়েছেন, কৃত্রিম এই আঙুলের সাহায্যে স্বাভাবিক আঙুলের মতো করেই যেকোনো বস্তুকে ধরা যাবে। এই কৃত্রিম আঙুলকে ব্যবহার করা যাবে কব্জির সাথেই। ফলে স্বাভাবিক আঙুলের বাইরেও এটি বাড়তি আঙুল হিসেবে কাজ করবে। প্রাথমিকভাবে এমআইটির গবেষক দল কৃত্রিম আঙুলের যে প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন, তা দেখতে স্বাভাবিক আঙুলের মতো হলেও আকারে খানিকটা বড়। তবে শীঘ্রই স্বাভাবিক আঙুলের আকৃতিতেই এই কৃত্রিম আঙুল তৈরির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা। কৃত্রিম আঙুল কাজ করে মূলত সেন্সরের মাধ্যমে। হাতের সাথেই বসানো থাকবে এই সেন্সর। বিশেষ একটি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এই সেন্সর থেকে নড়াচড়ার নির্দেশনা পৌঁছে যাবে কৃত্রিম আঙুলে। এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট এমআইটির যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হ্যারি অ্যাসাডা বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের ছুরি-কাঁচির মতো এমন অনেক যন্ত্রই ব্যবহার করতে হয় যেগুলোকে দীর্ঘ ব্যবহারের কারণে একটা সময় শরীরের বাড়তি অঙ্গ হিসেবেও গণ্য করা যেতে পারে। কৃত্রিম এই আঙুল তৈরি করতে গিয়েও আমরা এই বিষয়টিকেই মাথায় রেখেছি। এই আঙুল এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কিছুদিনের ব্যবহারের পর একে শরীরের একটি অংশ হিসেবেই মনে করা যাবে। অর্থাত্ স্বাভাবিক মানুষের শরীরের দশটি আঙুলের চাইতে বাড়তি একাধিক আঙুল ব্যবহারের সুবিধা উপভোগ করা যাবে এর মাধ্যমে।’ তিনি জানান, এই আঙুলকে যেমন স্বাভাবিক আঙুলের জায়গায় ব্যবহার করা যাবে, তেমনি হাতের আঙুল যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকেও ব্যবহার করা যাবে। ভিন্ন ভিন্ন ধরনের বস্তু ধরার জন্য আঙুলকে যেমন ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যবহার করতে হয়, ঠিক তেমনি কয়েক দিনের অনুশীলনের মাধ্যমেই এই কৃত্রিম আঙুলকেও বশে নিয়ে আসা যাবে। এতে করে মানুষের কাজের দক্ষতা অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছেন এর গবেষক দল।