সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৪, ২০:৪৩
বিনোদনের একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে শব্দ। এই শব্দকেই যিনি শ্রোতাদের মাঝে শ্রুতিমধুর করে তোলেন মূলত তিনিই সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার। একজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের কাজ হচ্ছে সাউন্ড রেকর্ডিং, এডিটিং এবং রেকর্ডেট সাউন্ড অথবা লাইভ সাউন্ডকে শ্রোতাদের কাছে ভালোভাবে উপস্থাপন করা। এই পুরো প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় শব্দ পরিসঞ্চালন। এই প্রজন্মের কাছে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক জনপ্রিয় একটি পেশা। এবারের আয়োজনে থাকছে তেমনই কয়েকজন মেধাবী আরজেদের আগামী দিনের স্বপ্ন ও তাদের প্রত্যাশার কথা।
রিপন নাথ
চিফ সাউন্ড ডিজাইনার, ধ্বনিচিত্র
‘মনপুরা’র কথা মনে আছে নিশ্চয়ই! ‘চোরাবালি’, ‘টেলিভিশন’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’—এতগুলো সফল কাজের সাউন্ড ডিজাইনার একজন। দেশ-বিদেশে তার নির্দেশনায় সাউন্ড ব্যবহার করা হয়েছে কয়েক হাজার বিজ্ঞাপনচিত্রে! এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এ দেশের মানুষকে দিয়ে এসেছেন দারুণ সব কাজ। রিপনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমাদের দেশে এই ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ কেমন? তিনি জানালেন, ‘রেডিও-টেলিভিশনে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে, চলচ্চিত্রে তো রয়েছেই। সুতরাং যদি কেউ ঠিক করেই আসে এখানে কাজ করবে, করার অনেক জায়গা রয়েছে, নিজে শুধু মন দিয়ে করে গেলেই হলো। যদি মনে হয় সব পেয়ে গেছেন, তাহলে তো আর এই জীবনটার আর দাম থাকে না!’ প্রতিদিন দেখছেন, শুনছেন, অনেক কিছু জানছেন। এভাবেই তো এগিয়ে যাওয়া। দিনকে দিন আমাদের প্রযুক্তি যতই উন্নত করতে পারব, বিশ্বমানের কাজগুলো সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখবে ও বুঝতে পারবে। এই ভাবনায় প্রতিদিন নতুন করে পথ চলেন তিনি।
পীযূষ ঘোষ
সাউন্ড এডিটর, রেডিও আমার
খুব ছেলেবেলায় শুরু করেছিলেন গানের চর্চা, আর গান থেকেই আগ্রহটা চলে এলো সাউন্ডের দিকে। তিনি বলেন, ‘কেউ চাইলেই এখন এটাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখনও সেভাবে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা না থাকলেও কাজ করতে করতেই অনেকে অনেক কিছু শিখছে। আর সাউন্ডের মূল বিষয় হলো, এটা নিয়ে খেলতে জানতে হবে। খেলার মতো করে ভাবলে অনেক সৃজনশীল কিছু করা যায় এর থেকে। সেটা করতে পারবে যারা, তারাই সফল হবে। পেশাটা আনন্দের। ভালোলাগা নিয়ে করতে পারলে অনেক দূর যাওয়া যায়। কাজ করার সুযোগও অনেক রয়েছে। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, ‘যার যার জায়গা থেকে একটু সচেতন হলেই বদলে দেওয়া সম্ভব অনেক কিছু।’ মেধায় মননে আর যোগ্যতায় সেই সাথে অবশ্যই সততায় এগিয়ে যাবেন তিনি অনেক দূর, এই প্রজন্মের শুভকামনা রয়েছে তার সাথে সার্বক্ষণিক।
সুশান্ত কুমার সরকার
সিনিয়র সাউন্ড প্রডিউসার, ঢাকা এফএম
সময়টা ছিল ২০০৭, আর তখন থেকেই তার এফএম ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িয়ে পড়া সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। বর্তমানে ঢাকা এফএম-এ সিনিয়র সাউন্ড প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন। পেশা হিসেবে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার কতটুকু সময়োপযোগী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চাকরি জীবনের স্বল্প সময়ের অভিজ্ঞতায় আমার মনে হয় বর্তমানে আমাদের দেশে এই কাজটা যথেষ্ট উপযোগী ও সম্ভাবনাময়। বর্তমানে মিউজিক সফটওয়্যারগুলো যথেষ্ট হেল্পফুল হওয়ায় অনেকে এখন ভালো কাজ করছে। আমার মনে হয় যারা এই কাজে আগ্রহী তারা এটিকে প্রফেশন হিসেবে বেছে নিতে পারে।’ সবশেষে, ভবিষ্যতে তার স্বপ্ন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংকে ঘিরেই, সাথে তার মায়ের ইচ্ছা পূরণ অদম্য প্রচেষ্টা তো রয়েছেই।