বৈচিত্র্যময় পোশাকে ঈদ

নিজের আউট লুকটা একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে এই সময়ের তরুণীরা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের চেয়ে ওয়েস্টার্ন পোশাক পরতে পছন্দ করে। আর বৃষ্টির দিন বা গরমের সময় শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের চেয়ে অনেকটাই আরামদায়ক পোশাক হচ্ছে জিন্স-টপস, জিন্স-ফতুয়া বা ফরমাল শার্ট-প্যান্ট। তবে এসব পশ্চিমা পোশাক পরার পাশাপাশি এর সঙ্গে সাজটাও হতে হবে মানানসই। ওয়েস্টার্ন স্টাইলের বৈচিত্র্যময় ঈদের পোশাক নিয়ে এবারের মূল ফিচার। লিখেছেন খালেদ আহমেদ ঈদের দিন নিজের সাজটা অন্য সবার থেকে আলাদা করতে চাইলে শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের চেয়ে ওয়েস্টার্ন স্টাইলের পোশাক বেছে নিতে হবে। আর যারা বেশি ফ্যাশনসচেতন তারা দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন লুকের পোশাক পরেন। আবার গরমের কথা মাথায় রেখে অনেকে এই সময়টাতে ওয়েস্টার্ন স্টাইলের পোশাককেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। গরমে শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের চেয়ে অনেকটাই আরামদায়ক পোশাক জিন্স-টপস, জিন্স-ফতুয়া বা ফরমাল শার্ট-প্যান্ট। তবে পশ্চিমা পোশাক পরার পাশাপাশি এর সঙ্গে সাজটাও হতে হবে মানানসই। এবার গতানুগতিক সালোয়ার-কামিজের বাইরে তাই অনেকেই পরছেন প্যাটার্ন ভিন্নতার পোশাক। ফেব্রিক ভেরিয়েশনের পাশাপাশি এতে থাকছে প্রাচীন ভারতীয় ও মরোক্কান ঐতিহ্যের ছোঁয়া। কামিজের ঘের হচ্ছে নানা রকম। কামিজ বা কুর্তার নেক লাইনে থাকছে কাটিং ভিন্নতা। পাশাপাশি গর্জাস নকশায় নেক লাইন থেকে ফ্রন্ট সাইড পুরোটাই প্রকাশ করছে ভিন্নতর পোশাকী ক্যানভাস। বাজার ঘুরে দেখা গেল, এবার শুধু নকশাই নয়, ¬েপাশাকের কাটছাঁটেও থাকছে ভিন্নতা। প্রজাপতি নকশার প্যাটার্নে তৈরি হয়েছে টিউনিক। কামিজের ঘেরেও থাকছে বৈচিত্র্য। বেশি ঘের দেওয়া কামিজ তো আছেই। পাশাপাশি চলছে লম্বা টপ বা কামিজে অসমান দৈর্ঘ্য অর্থাত্ সামনে বেশি ঘের, পেছনে কম, আবার পেছনে বেশি, সামনে কম ঘেরের নকশার পোশাক। ফতুয়া বা কুর্তায় থাকছে জ্যামিতিক কাট। গরমের কারণে এবর স্লিভলেস পোশাক বেশ চলছে, তাই কিছু পোশাকের হাতায় নতুনত্ব আনতে করা হয়েছে পাইপিংয়ের ব্যবহার। কামিজ আর টপের লম্বা হাতায় থাকছে লেস। জিন্স সব সময়ই তরুণীদের পছন্দের পোশাক, নানা রকম ছাপা নকশার প্যান্টও এখন বেশ চলছে। এ ছাড়া পালাজ্জো এবার জনপ্রিয়তায় এবার থাকবে তুঙ্গে। এবার কামিজে গর্জাস কোটি এবং লং শেপ কুর্তা বা কামিজে লুস ফিটিং পালাজ্জোও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দেশে দুই ধরনের ওয়েস্টার্ন পোশাক রয়েছে। এক বাইরের দেশ থেকে পোশাক এনে সেটা বিক্রি, অন্যটি পাশ্চাত্যপ্রাণিত পোশাক দেশীয় ডিজাইনারের ডিজাইনে এখানেই তৈরি। অনেক ব্র্যান্ড দুটোই করে থাকে। বিদেশ থেকে আনা পোশাকের পাশাপাশি নিজেদের কালেকশনও রাখে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিজাইনাররা ট্রেন্ডকে মাথায় রেখেই ডিজাইন করেন। অন্যান্য ধর্মীয় বা সামাজিক উত্সবের চেয়ে রোজার ঈদে পোশাকের বেশি চাহিদা থাকে। তাই এই উত্সব ঘিরে ওয়েস্টার্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোও সক্রিয় হয়ে ওঠে। দেশে ওয়েস্টার্ন আউটফিটের পথিকৃত্ ক্যাটস আই। আমাদের দেশীয় বাজারের জন্য ওয়েস্টার্ন পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে ক্যাটস আইয়ের ভূমিকা অনন্যসাধারণ। এই হাউজের এবারের ঈদ কালেকশনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কালার ও ফ্যাব্রিকের ওপর। ক্যাটস আই কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা সব সময় ব্রাইট কালারকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। পাশাপাশি ফ্যাব্রিকে কমফোর্টের জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মেয়েদের পোশাকের কাট ও প্যাটার্নে নতুনত্ব পাবেন ক্রেতারা। এবারের এই কালেকশন গতবারের চেয়ে একেবারেই অন্য রকম। কটন বেশি ব্যবহূত হয়েছে ফরমাল শার্টে। এ ছাড়া আছে মিক্সড ফ্যাব্রিকের শার্ট। এসব স্লিমফিট শার্টে ট্রেন্ড অনুযায়ী স্ট্রাইপ ও চেকের আধিক্য লক্ষ করা যায়। ট্রাউজার কালেকশনে রয়েছে নানা রঙের গ্যাবার্ডিন। এ ছাড়া আছে নানান ওয়াশের জিন্স। পকেটে বিভিন্ন ডিজাইনের সেলাই এসব জিন্সকে দিয়েছে ভিন্নতা। বুটকাট জিন্স থেকে সরে এসে এবার ক্যাটস আই স্লিমফিট ও রেগুলারফিট জিন্স বেশি তৈরি করেছে। দেশীয় ও ওয়েস্টার্ন ফিউশন লক্ষ করা যায় ব্র্যান্ডটির মেয়েদের কালেকশনে। লুকে আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এসব পোশাকে। যেখানে রয়েছে স্টোন ও সুতার প্রয়োজনানুগ ভ্যালু অ্যাডিশন। অনেকে স্লিভলেস ড্রেস পরেন না বলে স্লিভ ও ড্রেসের কাটে ভেরিয়েশন লক্ষ করা যাবে। তাদের কালেকশনে মিলবে মূলত জর্জেট আর কটনের ফুল স্লিভ, হাফ স্লিভ ও স্লিভলেস ফিউশন ড্রেস। এ ছাড়া চলতি হাওয়ার সঙ্গী পালাজ্জো। নীল সবুজ, মেরুন আর পার্পলই থাকছে বেশি। তবে চিরাচরিত সাদাকালোপ্রিয়রাও হতাশ হবেন না। ওয়েস্টার্ন ড্রেসের আরেকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ট্রেন্ডজ। তারা কালেকশন সাজিয়েছে ঈদ ও সামারকে চিন্তা করে। পোশাকে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে কাট ও প্যাটার্নের ভেরিয়েশনে। জমিন অলঙ্করণের কাজ থাকলেও তা পরিমিত। তবে উত্সব কালেকশনের একটা লাইন আছে তুলনামূলক ভারী কাজের। ট্রেন্ডজের শার্ট ও পোলো শার্টের দাম এবার কিছুটা কমানো হয়েছে। মেয়েদের ড্রেসের ডিজাইন ও কাটেও আনা হয়েছে নতুনত্ব। হালের ট্রেন্ড অনুসরণে যোগ হয়েছে পালাজ্জো। বেশ কয়েকটি প্যাটার্নের। সঙ্গে টপস। হলুদ, সবুজ ও সাদা মূলত রয়েছে কালার প্যালেটে। ইয়েলো, গ্রিন, হোয়াইট বেশি ব্যবহূত হয়েছে। বেশির ভাগ পোশাকই কটন, জর্জেট ও সিল্কের তৈরি।