ডিজিটাল হয়ে ফিরে আসছে ‘ওয়াকম্যান’

গান শোনার অভ্যাসকেই পাল্টে দিয়েছিল সনির ওয়াকম্যান নামের যন্ত্রটি। আজ থেকে ৩৫ বছর আগে বিশ্ববাসীর হাতে এই যন্ত্রটি তুলে দিয়েছিল সনি। একটা সময় পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি গ্যাজেট হিসেবেই স্বীকৃত ছিল এই ওয়াকম্যান। তবে প্রযুক্তির ক্রমবিবর্তনের সাথে সাথে একটা সময়ে এসে ব্রাত্য হয়ে পড়ে এই যন্ত্রটি। পার্সোনাল কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, এমপিথ্রি প্লেয়ার প্রভৃতি ডিভাইসের আবির্ভাবে ক্রমেই পুরোনো হয়ে পড়ে ওয়াকম্যান। অবশেষে এর উত্পাদন বন্ধও করে দেয় সনি। তবে ওয়াকম্যানের প্রতি সনির ভালোবাসা ফুরোয়নি। আর সে কারণেই ডিজিটাল রূপ দিয়ে পুনরায় তারা বাজারে আনতে যাচ্ছে ওয়াকম্যানকে। গান শোনার ডিজিটাল ডিভাইস হিসেবে অ্যাপলের আইপড এক নতুন যুগের সূচনা করে। সনির নতুন রূপে নিয়ে আসা ওয়াকম্যানও মূলত অ্যাপলের আইপডের টাচ সংস্করণের মতোই হবে। জেডএক্স-১ মডেলের এই ওয়াকম্যান অবশ্য আইপড টাচের তুলনায় আরও ভারী এবং পুরুত্বেও বেশি। গান শোনার জন্য হাই-এন্ড ডিভাইস হিসেবেই বাজারে আসছে এটি। ইতোমধ্যেই জাপানে পরীক্ষামূলকভাবে বিক্রি শুরু হয়েছে এই ডিজিটাল ওয়াকম্যানের। এশিয়া এবং ইউরোপের কিছু দেশেও এটি পাওয়া যাচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ইউরোপ, আমেরিকা বা অন্যান্য দেশে এর বিক্রি শুরু করেনি সনি। ১৩৯ গ্রাম ওজনের এই ডিভাইসের পুরুত্ব ১৩.৫ মিলিমিটার। এর দামও রাখা হয়েছে খানিকটা বেশিই—৭০০ ডলার। তবে অডিওর মান নিশ্চিত করার জন্য এতে সব সুবিধাই রাখা হয়েছে। এটি ২৪-বিটের ১৯২ কিলোহার্জ ফ্রিকোয়েন্সির ফ্রি লসলেস অডিও কোডেক (ফ্ল্যাক) ফরম্যাটের হাই-কোয়ালিটি অডিও পরিচালনা করতে পারে। হাই-কোয়ালিটি অডিও ধারণ করতে এতে স্টোরেজ রাখা হয়েছে ১২৮ গিগাবাইট। বেশকিছু ফরম্যাটের এইচডি ভিডিও চালাতেও সক্ষম জেডএক্স-১। ৫-ব্যান্ড ইকুয়ালাইজার, ডায়নামিক নরমালাইজার, ক্লিয়ার বেজ, ক্লিয়ার স্টেরিও প্রযুক্তি, উন্নত মানের হেডফোন প্রভৃতি ফিচার নিয়ে এর দামকে পুষিয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর সনি। এটি ৩২ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম বলে জানিয়েছে সনি।