তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি : একাদশ ও দ্বাদশ

১৯৪০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্র সর্বপ্রথম মোবাইল ফোন সার্ভিস চালু করে প্রকাশ কুমার দাস বিভাগীয় প্রধান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী গার্লস কলেজ, ঢাকা প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আজও ২য় অধ্যায়-কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং থেকে বিভিন্ন প্রজন্মের মোবাইল ফোনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হলো। এগুলো তোমরা সংগ্রহ করে পড়বে। প্রশ্ন-১। মোবাইল প্রজন্ম কী? বিভিন্ন প্রজন্মের মোবাইল ফোনের বৈশিষ্ট্য লিখ। উত্তর : বিভিন্ন প্রজন্মের মোবাইল: মোবাইল ফোন বর্তমান বিশ্বে অত্যাবশ্যকীয় একটি যন্ত্র হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। ১৯৪০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্র সর্বপ্রথম মোবাইল ফোন সার্ভিস চালু করে। ১৯৫০ সালের শুরুতে ইউরোপে মোবাইল সার্ভিস চালু হয়। ঐ সময়ে মোবাইল ফোনের ধারণ ক্ষমতা ছিল খুবই কম। নেটওয়ার্ক সিস্টেম ছিল দুর্বল এবং সীমিত এলাকার মধ্যে নেটওয়ার্ক কাজ করতো। মোবাইল টেলিফোন প্রযুক্তিকে জন্মলগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত চারটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ১.প্রথম প্রজন্ম (1st Generation - 1G) (১৯৭৯ - ১৯৯০) ২. দ্বিতীয় প্রজন্ম (2nd Generation - 2G) (১৯৯১ - ২০০০) ৩. তৃতীয় প্রজন্ম (3rd Generation - 3G) (২০০১ - ২০০৮) ৪. চতুর্থ প্রজন্ম (4th Generation - 4G) (২০০৯ - বর্তমান) নিচে বিভিন্ন প্রজন্মের মোবাইল ফোনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হলো: প্রথম প্রজন্মের মোবাইল সিস্টেমের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য : ১. নেটওয়ার্ক AMPS, NMT ও TACS সিস্টেমের ব্যবহার। ২. মোবাইল টেলিফোন স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে মোবাইল রেডিও টেলিফোনের ব্যবহার। ৩. নেটওয়ার্কে রেডিও সিগন্যাল হিসেবে অ্যানালগ সিস্টেমের ব্যবহার। ৪. সিগন্যাল ফ্রিকুয়েন্সি অনেক কম। ৫. ব্যবহারকারী কথা বলার সময় অবস্থান পরিবর্তন করলে ট্রান্সমিশন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ৬. ছোট ও হালকা মোবাইল ফোনের ব্যবহার। ৭. সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোপ্রসেসরের ব্যবহার। ৮.চ্যানেল অ্যাকসেস পদ্ধতি FDMA (Frequency Division Multiple Access)। উদাহরণ : Nordic Mobile Telephone (NMT), Nordic দেশসমূহে ব্যবহূত, যেমন- সুইজারল্যান্ড, হল্যান্ড, পূর্ব ইউরোপ এবং রাশিয়া। এছাড়া AMPS (Advanced Mobile Phone System) উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল সিস্টেমের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ১. টেলিফোন নেটওয়ার্ক GSM ও CDMA স্ট্যান্ডার্ড। ২. ওয়্যারলেস টেলিফোন প্রযুক্তির ব্যবহার। ৩. চ্যানেল অ্যাকসেস পদ্ধতি TDMA, FDMA I CDMA। ৪. উন্নত মানের অডিও-র জন্য ডিজিটাল মডুলেশন ব্যবহার। ৫. নেটওয়ার্কে রেডিও সিগন্যাল ডিজিটাল। ৬. উচ্চ গতির সিগন্যাল ফ্রিকুয়েন্সি। ৭. এমএমএস বা টেক্সট মেসেজ এর প্রচলন। ৮. ভয়েস কল ও টেক্সট পরিচালনার জন্য কোর সার্কিট সুইচ নেটওয়ার্ক পদ্ধতির ব্যবহার। ৯. সীমিত আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা। ১০. মোবাইল ডেটা পরিচালনার জন্য প্যাকেট সুইচ নেটওয়ার্কের ব্যবহার। ১১. উচ্চগতি সম্পন্ন ডেটা পারাপার। ১২. প্রিপেইড পদ্ধতি চালু। উদাহরণ : GSM-900, GSM-R, GSM-1800, GSM-1900, GSM-400। পরবর্তী অংশ আগামীকাল