অভিবাসন ও শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে বহুকাল থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশও এই সংকটে ভুগছে। বর্তমানে বাংলাদেশেও শরণার্থী ইস্যু একটি বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন অ লে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নৃশংস অভিযান চালানো হয়েছে তারই ফলশ্রুতিতে লাখো মানুষ শরণার্থী হিসেবে পাড়ি দেয় পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে। বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এসকল শরণার্থীদের আশ্রয় দেন এবং সকল প্রকারের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
এসব ভাগ্যহত মানুষেরা নিজের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে কিংবা ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় নিরুপায় হয়ে অন্যদেশে পাড়ি জমাচ্ছে তাদের নিয়ে তরুণদের ভাবনা আছে। তরুণরা মানবিক ও নৈতিক দিক বিবেচনায় এসকল শরণার্থী ও অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে। পাশাপাশি তারা মনে করে যে এর মাধ্যমে সাময়িক সমাধান করা গেলেও পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব নয়। শরণার্থী সমস্যা এখন কোন দেশের একক অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।
বর্তমানে দেশের প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ তরুণসমাজ; যা মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ এবং এই যুবসমাজই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং দেশ চালনার মুল চালিকা শক্তি। এমতাবস্থায় দেশের যুব সমাজ সার্বিক দিক বিবেচনা করে তারা কি ভাবছে, এ সংকট উত্তরণের উপায় এবং বিশ্বকে কিভাবে এসকল সংকট থেকে মুক্ত করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা, মতামত, বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার বিষয়ে বিভিন্ন দেশের তরুণদের নিয়ে একটি ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পারসোনা ও ফারজানা শাকিলসকে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা
তরুণদের নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি আট সদস্যের একটি বিদেশি দল বাংলাদেশ পরিদর্শন করে গেছে। ডেনমার্ক ও রোমানিয়ার মোট চারটি ভিন্ন ভিন্ন সংস্থা থেকে আগত এ আট সদস্যবিশিষ্ট দলটি বাংলাদেশে এসেছিল ‘দ্যা আর্থ সোসাইটি’র আমন্ত্রণে। বিদেশি চারটি সংস্থা হচ্ছে ইন্টার কলেজ, ইয়্যুথ অ্যাকশন, অ্যাডেপ্ট এবং ইকো প্রো। দ্যা আর্থ সোসাইটির সদস্যসহ বিদেশি চারটি সংস্থা মিলে দিনব্যাপী এক বৈঠকে অংশগ্রহণ করে অ্যাসার মর্টেনসেন, অ্যামেশা লরা ল্যাজলো, ড্যানি ফোম্যান হোম নিয়েলসেন, অ্যানা ভিরু, এডুয়ার্ড ভ্যালেন্তিন গানেস্যু, বোহদান হ্যাব্রিয়েল আলবেস্তিনু, মায়া হেডিন, সিসে ক্যারিলস, মোহাম্মদ সাদেকুল আরেফীন, মোহাম্মদ মামুন মিয়া, ইমদাদুল হক এবং স্কাইপিতে অংশগ্রহণ করেন শাকিলা সাত্তার ত্রিনা।
বৈঠকের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল কিভাবে বাংলাদেশ এবং ইউরোপিয়ান তরুণ-তরুণীদের নিয়ে চলমান বাংলদেশের রোহিঙ্গা ইস্যু ও ইউরোপের অন্যান্য শরণার্থী সংকট নিয়ে একসাথে কাজ করা যায়। তরুণ-তরুণীদের নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে দলটি একটি প্রস্তাবনা পেশ করে; যেটি হচ্ছে, এবছরের নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ এবং ডেনমার্ক উভয় দেশের বিশজন করে মোট চল্লিশজন তরুণ-তরুণী নিয়ে কক্সবাজারে একটি ‘ইয়্যুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ আয়োজন করা হবে, যেখানে উভয় দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সাথে তাদের নলেজ, আইডিয়া, অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয় শেয়ার করবে। একই প্রকল্পের অধীনে আগামী বছরের এপ্রিলে দ্যা আর্থ সোসাইটির তিন সদস্যের একটি দল শিক্ষা সফরে ডেনমার্ক যাবে, যেখানে তারা ডেনমার্কে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কার্যক্রম অবলোকন করবে এবং সেই কার্যক্রমগুলোর ব্যাপারে ধারণা নিবে; এবং এরই ধারাবাহিকতায় এই দলটি আগামী বছরের শেষের দিকে নয়দিনের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নিতে রোমানিয়া যাবে। তরুণ-তরুণী ছাড়াও দলটি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কাজ করতে চায়, বিশেষ করে রোহিঙ্গা মহিলা এবং তরুণ-তরুণীদের নিয়ে। এ প্রকল্পে অর্থায়ন সহযোগিতা করছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস। দ্যা আর্থ সোসাইটির পক্ষে দলটির সাথে সমন্বয়ের কাজ করেন দ্যা আর্থ সোসাইটি’র প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক জনাব মোহাম্মদ মামুন মিয়া।
এ প্রোগ্রাম বিষয়ে দ্যা আর্থ সোসাইটি’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সাদেকুল আরেফীন বলেন, শরণার্থী সংকট নিয়ে এখনই উত্তম সময় তরুণদের কথা বলা যা কিনা বৈশ্বিক সংকট নিরসনে দ্বার উন্মোচন করবে এবং ‘ইয়্যুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ এর মাধ্যমে বিশ্বের সকল তরুণদের মধ্যে চিন্তা এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, দ্যা আর্থ সোসাইটি একটি বাংলাদেশি এনজিও সংস্থা যারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন তরুণ-তরুণীদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকে।
ইত্তেফাক/বিএএফ