চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ বাংলাদেশের সামনে সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পোশাক পণ্য প্রস্তুতকারকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল ফেডারেশনের (আইএএফ) প্রেসিডেন্ট হ্যান বেকে। তিনি বলেন, তবে এ সুবিধা কতটুকু নিতে পারবে, তা নির্ভর করছে বাংলাদেশের ওপর। গতকাল বুধবার রাজধানীর কাওরানবাজারে বিজিএমইএ ভবনে ঢাকা সফররত আইএএফ প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্য করেন। এ সময় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্র্যান্ডিংয়েও গুরুত্ব দিয়ে এ ক্ষেত্রে আইএএফ একত্রে কাজ করবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসা আইএএফ প্রেসিডেন্ট আজ শুক্রবার নেদারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। সফরকালে বিজিএমইএ ছাড়াও পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ফেডারেশনের ৪৫টি দেশের পোশাক পণ্য প্রস্তুতকারী সংগঠন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর এ প্রথম আইএএফের কোনো প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করলেন। এ সময় আইএএফের মহাসচিব ম্যাথুস ক্রিয়েতও উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বিজিএমইএ’র সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান গার্মেন্টস খাতের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে (কমপ্লায়েন্স) গত কয়েক বছরে তাদের উদ্যোগের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দর কমছে। তিনি বলেন, আমাদের নানামুখী উন্নয়ন সত্ত্বেও কিছু কিছু এনজিও বিদেশি ক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করছে। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে আইএএফের ২০২০ সালের সম্মেলন ঢাকায় আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়টি আইএফের বোর্ড সভায় আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে প্রেসিডেন্ট জানান। অ্যাকর্ড বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইএএফ প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
পোশাকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আইএএফের
সহযোগিতা চেয়েছে বিকেএমইএ
ক্রেতাদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং প্রতি সিজনেই মূল্য কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিকেএমইএ। আইএএফ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠককালে বিকেএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমাদের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে জেনেও ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে পণ্য কিনতে প্রতিযোগিতা করে প্রায় সব দেশে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পণ্য হাতে পাওয়ার পর তুচ্ছ কারণে মূল্য ছাড়ের জন্য চাপ দেয়, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট করছে। এ নিয়ে ক্রেতা জোটগুলোর সাথে আলোচনার জন্য আইএএফের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। আইএএফের মহাসচিব এ ব্যাপারে একমত পোষণ করে এটিকে ক্রিমিনাল সোর্সিং প্র্যাকটিস বলে উল্লেখ করেন। এ সময় বিকেএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি ফজলুল হক, বর্তমান সহ-সভাপতি মুনসুর আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।