লংগদুতে বন্যহাতির তাণ্ডবে ১৫ বছরে ৫০ জনের প্রাণহানি
এ কে এম মকছুদ আহমেদ, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪৬
রাঙ্গামাটি জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা লংগদুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির তাণ্ডব বেড়ে চলেছে। প্রশাসনিকভাবে প্রতিকারের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বন্যহাতির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। বন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরে বন্যহাতির আক্রমণে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তির প্রাণহানি হয়েছে লংগদু উপজেলায়। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে আরও অনেকে।
লোকালয়ে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালাচ্ছে বন্যহাতি। সমপ্রতি ওই উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রামে বন্যহাতির তাণ্ডবে জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটছে। গত কয়েক মাস ধরে লংগদু উপজেলার দুর্গম জনপদ চাইল্যাতলী, ঘনমোড়, রাঙ্গাপানি, বগাচতর, ভাসান্যাদমসহ আশপাশের বেশ ক’টি গ্রামে বন্যহাতি হানা দিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বন্যহাতির একটি দল বগাচতর গ্রামে ঢুকে পড়ে বাড়িঘরে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এসময় এলাকার ৫টি বাড়িঘর ধ্বংস করে দিয়েছে। সমপ্রতি লংগদু উজেলার বগাচতর ইউনিয়নের ৮ নং ও ৯ নং মারিশ্যাচর এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে ঘর হারিয়েছে আবু বক্কর, ওমর আলী ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, শাহ আলম, লেয়াকত আলী। এছাড়া বন্যহাতির আক্রমণে আহত হয়-লেয়াকত আলীর মেয়ে। ওই সময়ে ধানের জমিসহ ব্যাপক ফসলি জমি বিনষ্ট করে দিয়েছে বন্যহাতির পালটি। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন আতংকে খোলা মাঠে তাঁবু খাটিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে। বর্তমানে বন্যহাতির দলটি লোকালয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে গত কয়েক দিন ধরে ১৪-১৫টির হাতির পালটি পাহাড়ি গ্রামে আক্রমণ চালায়। বন্যহাতির ভয়ে লোকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। সামনে ঈদ আসলেও ঈদের আনন্দর হাসিটুকু নেই এসব গ্রামের মানুষগুলোর মুখে।
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জানান, বন্যহাতির তাণ্ডবে এ অঞ্চলের মানুষ সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকে। কখন কার বাড়িতে আক্রমণ চালায় ঠিক নেই। উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের জালালাবাদ, রাজনগর, মুর্শিদাবাদ, ছোট মাহিল্যা, বগাচতর ইউনিয়নের মারিশ্যাচর, রাঙ্গীপাড়া, ভাসাইন্যাদম ইউনিয়নের পোকশাপাড়া, পূর্ব চাইল্যাতলী, ঘনমোড়, আমতলীসহ আশপাশের এলাকায় বন্যহাতির পাল কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে ঘুরে ফিরে প্রতিনিয়তই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। দিনের বেলায় হাতিগুলো আশপাশের জঙ্গলে অবস্থান করে রাতে লোকালয়ে বসতবাড়ি ভাংচুর করে ধান, চালসহ ফসলি জমির ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। লোকজন হাতির আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার রাঙ্গিপাড়া বন কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব আলম জানান, লংগদু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকায় বন্যহাতির তাণ্ডব বেড়েছে। বর্তমানে রাঙ্গিপাড়া এলাকায় বন বিভাগের অফিসের পাশে দু’টি বন্যহাতির পাল অবস্থান করছে। শুনেছি একটি বাচ্চাও না কি দিয়েছে। ব্যাপক হারে বন উজাড়ের কারণে পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যাওয়ায় হাতির খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে প্রকটভাবে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে পাহাড়ে হাতি উম্মত্ত হয়ে গ্রাম থেকে গ্রাম চষে বেড়াচ্ছে। পাহাড় থেকে নেমে এসে বন্যহাতির পাল এখন লোকালয়কে বসবাসের জায়গা করে নিচ্ছে। আর গ্রামের সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত বন্যহাতির সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।