জালালপুরের গুচ্ছগ্রামে ৩২০টির মধ্যে ১৫০টি ঘর পরিত্যক্ত

দরিদ্র ভূমিহীনদের জন্য সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার জালালপুর গুচ্ছগ্রামে সরকারি উদ্যোগে ৩০টি ঘর বরাদ্দ দেয়া নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বাররা। এছাড়া জেলার বৃহত্ এ গুচ্ছগ্রামে অন্য ৩২০টির কক্ষের মধ্যে অন্তত ১৫০ টির টিন, চালা ও অন্যান্য জিনিস মরিচা পড়ে নষ্ট ও ভেঙ্গে যাওয়ায় সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। খাবার পানির টিউবয়েলগুলোও চুরি হয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ নিয়েও রয়েছে বিড়ম্বনা। সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর ভাঙ্গনকবলিত পূর্ব শাহজাদপুরের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ২০০৩ সালে এনায়েতপুর থানার জালালপুরে জেলার একটি গুচ্ছগ্রাম তৈরি করা হয়। ৭০ একর জায়গায় পর্যায়ক্রমে তৈরি করা হয় ২৬০টি রুমের ২৬টি ব্রাক। আরো তৈরি করা হয় ৬০টি কক্ষ। এরপর পর্যায়ক্রমে পুরো রুমগুলোতেই আশ্রয় পায় এলাকার সাধারণ অসহায় মানুষ। গত মাস খানেক আগে ৪২ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দে আরো ৩০টি ঘর, বাথরুম তৈরি করা হয় ৩০টি অসহায় পরিবারের জন্য। ঘরগুলো বরাদ্দ পেতে ভূমিহীনরা স্থানীয় জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিকট ধরনা দিচ্ছেন। এ সুযোগে তারা ঘর প্রতি বরাদ্দের নামে এলাকার সরলপ্রাণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন ৩ থেকে ১২ হাজার টাকা। স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যানের কথা বলে এলাকার মেম্বার বলেছে টাকা ছাড়া ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়া হবে না। এদিকে গুচ্ছগ্রামে এর আগে ২ দফায় নির্মিত ৩২০টি কক্ষের মধ্যে অন্তত ১৫০ টির টিন, চালা, দরজা-জানালা ও অন্যান্য জিনিস মরিচা পড়ে নষ্ট ও ভেঙ্গে গেছে। এজন্য এগুলো পরিত্যক্ত পড়ে আছে। আবার কোন-কোনটিতে বসবাসরত অসহায় জোসনা খান, মোকারম হোসেন তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে নতুন ভবনগুলোতে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের প্রভাব মুক্ত করে তাদেরকেই বরাদ্দের দাবি জানালেন কর্তৃপক্ষের কাছে। এদিকে ঘর বরাদ্দে অর্থ কেলেংকারির কথা অস্বীকার করলেন জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ চৌধুরী। তিনি জানান, ঘর বাবদ কোন ব্যক্তি মেম্বারদের টাকা দিলে তার দায় ঐ ব্যক্তিরই। আর গুচ্ছগ্রাম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ জানালেন, ঘর বরাদ্দে মেম্বার চেয়ারম্যানদের কোন এখতিয়ার নেই। প্রকৃত অসহায়দেরকে ঘরগুলো প্রদান করা হবে।