চাপে নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ!

প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের স্পিনারদের বিপক্ষে রীতিমতো খাবি খেয়েছেন ক্যারিবিয় ব্যাটসম্যানরা। শেষ পর্যন্ত স্পিনারদের হাতেই ২০ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হেরেছে তারা বড় ব্যবধানে। এখন প্রবল চাপ তাদের ওপর শেষ টেস্ট জিতে সিরিজটা অন্তত ড্র করার জন্য। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাথহোয়াইট বলছেন, তাদের ওপর কোনো চাপ নেই। তারা সিরিজ ড্রয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

সিরিজ ড্র করার ব্যাপারে বলতে গিয়ে ক্যারিবিয় অধিনায়ক বলছিলেন, ‘আমরা চাপে নেই। আমরা জানি, আমাদের কী করতে হবে। অবশ্যই আমরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছি এবং আমরা সিরিজ ড্র করতে চাই। ওপরের দিকের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে এখন অবশ্যই জুটি উপহার দিতে হবে। আর সেটা করতে পারলে আমরা শেষ টেস্ট ড্র করতে পারবো।’

প্রথম টেস্টে পরাজয়ের কারণ খুব সামান্য বলে মনে করেন ব্রাথহোয়াইট, ‘আমার মনে হয়, আমরা প্রথম ইনিংসে ওদের ৪০-৫০ রান বেশি দিয়ে ফেলেছি। সেই সাথে আমরা চারটি ক্যাচ ফেলেছি। আমরা একবার এসব জায়গায় উন্নতি করতে পারলে এবং ওপরের দিকের পাঁচ ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে ভালো শুরু পেলে সিরিজটা ড্র করতে পারবো বলে আশা করছি।’

সিরিজটা ড্র করতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঠিক কী করতে হবে, সে ব্যাপারেও পরিষ্কার ধারণা আছে অধিনায়কের। তিনি বলছিলেন, ‘প্রত্যেক ব্যাটসম্যানকে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। গত খেলাটা ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন একটা উইকেটে খেলা হয়েছে। আমরা একবার যখন নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে ইতিবাচক থাকতে পারবো এবং পরিকল্পনায় বিশ্বাস রাখতে পারবো, তখন এখানে আমরা ভালো করতে পারবো। যদিও এটা করা সহজ নয়। তবে নিজের ফুটওয়ার্ক বলেন, ক্রিজে টিকে থাকা বলেন; সবকিছুতে নিজেদের পরিকল্পনাকে সমর্থন করে যেতে হবে।’

বাংলাদেশ যে আরো একবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্পিনে কাবু করার চেষ্টা করবে, সেটা সত্যি। তবে ব্রাথহোয়াইট বলছিলেন, তারা শুধু স্পিনে ভরসা করবেন না। তারা দুই বিভাগে একটা ভারসাম্য রাখবেন বলে বলছিলেন, ‘অবশ্যই আক্রমণে একটা ভারসাম্য থাকবে। স্পিন অবশ্যই প্রথম টেস্টে বেশি ক্ষতি করেছে। তার মানে এই নয় যে, পেসাররা উইকেট নিতে পারবেন না। আমার মনে হয় আমরা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পারলে আমরা চাপ তৈরি করতে পারবো এবং উইকেট নিতে পারবো। আমি স্পিন ও পেস, দুই বিভাগকেই সমর্থন জানাতে চাই।’

চট্টগ্রামের মতো স্পিন সহায়ক উইকেট যদি আরেকবার হয়, সেখানে কী করতে হবে, সেটাও বাতলালেন ক্যারিবিয় অধিনায়ক। তিনি বলছিলেন, ‘এই ধরনের উইকেটে ইতিবাচক থাকাটা মূল ব্যাপার। প্রথম টেস্টে বাউন্স বেশ বৈচিত্রময় ছিলো। এখন ব্যাপারটা আমাদের ওপর নির্ভর করে যে, আমরা নিজেদের রক্ষণ ও আক্রমণকে কতোটা বিশ্বাস করবো। আমার মনে হয় মূল ব্যাপারটা হলো নিজের পায়ের ওপর হালকা থাকা এবং প্রতিটা বল যেমন আসছে, সেটাকে সেভাবে মোকাবিলা করা। আমার মনে হয়, আমাদের নিজেদের মনে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে যে, আমরা কিভাবে কাজটা করতে চাই। আমি অবশ্যই বিশ্বাস করি যে, আমরা কাজটা করতে পারবো।’