হকিতে বড় পরিকল্পনা

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন আগামি বছরের জন্য বেশ কটি বড়  উদ্যোগ নিয়েছে।

আগামী বছর প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ফুটবল আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ফেডারেশন। এরই মধ্যে ফেডারেশন থেকে এ ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় দল নিয়েও পৃথক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব এহসান রানা। তিন বছরের একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের পর সেটি সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এমনকি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকদের কাছেও পাঠানো হবে অর্থ সংগ্রহের জন্য।

তিন বছরে জাতীয় দলের জন্য ১৫ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। আগামী এশিয়া কাপকে লক্ষ্য করে জাতীয় দল নিয়ে কাজ করা হবে। তিন বছরের পরিকল্পনায় জাতীয় দল গড়া হবে। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে খেলাও তাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন রানা। তিনি বলেন,‘বিদেশি কোচিং স্টাফ এনে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সঙ্গে দেশি একজন কোচও থাকবে।’

হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক বলেছেন,‘আমরা এশিয়া কাপ হকিতে ৬ নম্বর হয়েছিলাম। ৩০ নম্বর আমাদের র্যাংকিং। এখান থেকে আমরা উপরে উঠতে চাই।’

বড় বাজেটের পরিকল্পনা করা হলেও বাড়বে না জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক বলেন,‘বেতনটা এখন ১০ হাজার টাকা রয়েছে। এটাই থাকবে।’ শুধু জাতীয় দল নয়, নতুন বছরে হকি ফেডারেশন প্রধানমন্ত্রী কাপ হকিও আয়োজন করতে চায়। তিনি জানান- প্রধানমন্ত্রী কাপ হকির পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০০১ সালে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কাপ হকি। সেটি পুনরায় আয়োজন করতে চায় ফেডারেশন। এজন্য ইউরোপের ৪টি এবং এশিয়া হতে ৪টি দলকে আমন্ত্রণ জানাতে চায় ফেডারেশন।

এ ব্যাপারে রানা বলেন, ‘জুন-জুলাইয়ে টুর্নামেন্ট করতে চাই। তবে এখন যেহেতু বিশ্বকাপ হকি চলছে। তাই এটি শেষ হলে কথা বলব আমরা।’ সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেকেরও একই মত। তিনি বলেন,‘আমরা এশিয়া কাপ হকি এবং ওয়ার্ল্ড হকি লিগে অংশগ্রহণ করছি। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হচ্ছে আমাদের নিজেদের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি টুর্নামেন্টে থাকা উচিত।’

হকির জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধির জন্যও কাজ করবে ফেডারেশন। হালের ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও ফুটবলের মতো করে ফ্রাঞ্চাইজি হকি টুর্নামেন্টও আয়োজন করতে চায় হকি ফেডারেশন। বিভাগগুলোর নামে হতে পারে এটি কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নামেও দল গঠন করা যাবে। আব্দুস সাদেকের অভিমত হচ্ছে- তারা একটা পরিবর্তন আনতে চাইছেন। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করার পাশাপাশি কিছু নিয়মিত টুর্নামেন্টও করতে চাইছেন। জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক এ ব্যাপারে বলেন, ‘হকিটাকে ঢাকায় না রেখে ছড়িয়ে দেয়া দরকার। জেলায় জেলায় লিগ হচ্ছে না। দেশের সব বিকেএসপিতে হকি নেই। সেটা অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। বিকেএসপির শাখাগুলোতে টার্ফ স্থাপনের জন্য আমরা বিকেএসপি এবং মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কথা বলব।’ তার মতে হকিকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে এতে বিনিয়োগ করতে হবে।

হকি নিয়ে এ পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নের জন্য অবশ্য অপেক্ষায় থাকতে হবে। কারণ সামনে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন রয়েছে। আব্দুস সাদেক এবং মাহবুবুল এহসান রানা দুজনেরই মত হলো জাতীয় নির্বাচনের পর তারা হকির নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবেন।