মাংসখেকো গাছগুলো
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২৩
সাধারণত দেখা যায়, প্রাণীরা জীবন ধারণের জন্য বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে। তারপর কোনো প্রকার রান্নাবান্না ছাড়াই শিকার করা প্রাণীটিকে খেয়ে ফেলে তারা। মানুষখেকো এই উদ্ভিদদের নিয়ে লিখেছেন অনন্যা রহমান
অনেকে আছেন যারা সিনেমার পোকা, তারা হয়তো টারজান অথবা অন্য বিভিন্ন চলচ্চিত্রে বিভিন্ন রকম মানুষখেকো গাছ দেখেছেন।সেখানে দেখা যায় বিশাল একটা গাছের লতা আষ্টেপৃষ্ঠে মানুষ বা বিভিন্ন প্রাণী জড়িয়ে ধরে তাদের খেয়ে ফেলছে। সেটা দেখে অনেকের ধারণা হতে পারে বাস্তবে বুঝি মানুষখেকো উদ্ভিদ আছে। কিন্তু সত্যি কথা হলো মানুষ খেয়ে ফেলে এমন কোনো উদ্ভিদের দেখা এখনও পায়নি উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা। তবে কিছু উদ্ভিদ আছে যারা ছোট ছোট পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। এদের বলে মাংসখেকো উদ্ভিদ। সেরকমই মাংশখেকো কিছু উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে কলস উদ্ভিদ, ফ্লাইপেপার ট্র্যাপ, স্ন্যাপ ট্র্যাপ, ব্লাডার ট্র্যাপ, লবস্টার-পট ট্র্যাপ, ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ ইত্যাদি। বাংলাদেশের বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে এই উদ্ভিদ খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে সূর্য শিশির, ভেনাস ফ্লাই ট্র্যাপ নামের একাধিক মাংসখেকো উদ্ভিদ আছে। সাধারণত যেসব এলাকার মাটিতে পুষ্টি উপাদান কম (বিশেষ করে নাইট্রোজেন) এবং মাটি ভেজা সেখানে মাংসখেকো এই উদ্ভিদগুলোকে জন্মাতে দেখা যায়। কারণ মাটি থেকে পুষ্টি না পাওয়ায় এর অভাবটা এরা পোকামাকড় খেয়ে মিটিয়ে থাকে। দক্ষিণ আমেরিকাতে মাংসখেকো উদ্ভিদ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এছাড়া এশিয়ার কিছু দেশেও এর দেখা মেলে। এই উদ্ভিদগুলো পোকামাকড়কে ধরার জন্য নানা ধরনের ফাঁদ পাতে। আর বোকা পোকামাকড়ও সেই ফাঁদে সহজেই ধরা পড়ে। কলস উদ্ভিদের কথাই বলা যাক। এই গাছটি দেখতে অনেকটা কলসের মতো। তাই এর নাম কলস উদ্ভিদ। সেরা মাংসখেকো উদ্ভিদ সম্ভবত ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ। আমেরিকার সাউথ ও নর্থ ক্যারোলিনায় এই উদ্ভিদগুলো ব্যাপকভাবে বিভিন্ন প্রকারে পাওয়া যায়। উদ্ভিদগুলো প্রায় এক ফিটের মতো লম্বা হয়। ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের পাতাগুলো দেখতে অনেকটা মুখের চোয়ালের মতো। এই পাতাগুলো তিন থেকে ছয় ইঞ্চির মতো লম্বা হয় এবং এতে ছোট ছোট অনেকগুলো লোম থাকে। পোকামাকড় যদি কখনও এই পাতার উপর বসে তাহলে এই পাতা মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ ভেনাস ট্র্যাপের পাতা খুবই সংবেদনশীল। তাই আধ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে সে তার পাতা বন্ধ করে ফেলতে পারে। ঠিক এই সময় আবার পাতার লোমগুলোও পোকাকে বাইরে বের হতে বাধা দেয়। ফলে পাতার মাঝখানে পোকা আটকা পড়ে। এর পর আর কী, পাতা থেকে বিশেষ এক রস বের হয়ে পোকাকে হজম করতে শুরু করে। এভাবে একটা পোকা হজম করতে ভেনাস ট্র্যাপের ১০ দিনের মতো সময় লাগে। এই উদ্ভিদ জন্মে সাধারণত জলাভূমিতে। জলাভূমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ এমনিতেই খুব কম থাকে। তাই এই উদ্ভিদকে নাইট্রোজেন যোগাড় করতে হয় পোকামাকড় খেয়ে। কিছু কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন, পরিবর্তিত পরিবেশে টিকে থাকতে গিয়ে বিবর্তনের মাধ্যমে এই সব উদ্ভিদ মাংসভূক হয়েছে। কিন্তু অনেকেই বিজ্ঞানীদের এই মতবাদ সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেন।