ভবিষ্যতে কোন পথে

কয়েকদিন আগেই এইচএসসি ফলাফল প্রকাশ হলো। এইচএসসির ফলফল প্রকাশ মানেই মাথায় চাপে ক্যারিয়ার ভূত! কারণ নিজের পছন্দমতো পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে এখনই নিতে হবে সিদ্ধান্ত। কেমন হতে পারে আপনার ক্যারিয়ার সেই চিন্তায় কিছু তথ্য যোগান দিতে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার নিজের জীবনের গতিপথ নিজেকেই আঁকতে হয় আর তাই এইচএসসির পর আড্ডাবাজি বাউণ্ডুলেপনা কিংবা অ্যাডভেঞ্চারে ইত্যাদি বাদ দিয়ে মনোযোগী হতে হবে ক্যারিয়ার নিয়ে। কোন পথে হাঁটবেন বা কোন পথটি আপনার খোলা তারই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এখনই। অগ্রিম চিন্তা হিসেবে প্রায় সকলেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরের দু’মাসের প্ল্যানিং শেষ করে ফেলে। নীল নকশার গোড়ায় যেন গলদ না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এই মুহূর্তের ছোট একটি ভুল সিদ্ধান্তের মাসুল সারাজীবন আপনাকে বয়ে বেড়াতে হবে। নিজের জীবনের গতিপথ নিজেকেই আঁকতে হবে। অনেকে হয়তো ভাবছেন আমি সাংবাদিকতা কিংবা ব্যাংকিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ব কিন্তু এই ক্যারিয়ারে যেতে চাইলে আপনার করণীয় কী কিংবা এই বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ক্যারিয়ারের সম্ভাবনাই বা কতটুকু তা অনেকেরই জানা নেই। তাহলে চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক— চিকিত্সক ক্যারিয়ার হিসেবে চিকিত্সক বরাবরই সকলের প্রথম পছন্দ। মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা যুদ্ধ বরাবরই তার প্রমাণ রেখেছে। এ নিয়ে প্রস্তুতিরও অভাব নেই। এ ক্ষেত্রে যারা আত্মবিশ্বাসী হবে, তারাই ভালো করবে। ভর্তি প্রস্তুতির সময় নানা দুশ্চিন্তা ও ভয় এসে মনকে অস্থির করে তুলতে পারে। বিশেষ করে, যারা অল্পের জন্য জিপিএ-৫ পাননি, তাদের তো মনে হতে থাকে, ‘আমি ভর্তি হতে পারব তো?’ তাদের জন্য বলছি, মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকা তৈরি হয় মোট ২০০ নম্বরের মধ্যে। এতে ১০০ নম্বর নেওয়া হয় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের জিপিএ মিলে (মাধ্যমিকের জিপিএর সঙ্গে ৮ এবং উচ্চমাধ্যমিকের জিপিএর সঙ্গে ১২ গুণ করে)। আর বাকি ১০০ নম্বর থাকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য। ধরা যাক, আপনি মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছন, কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে পেয়েছন ৪.৮০। তাহলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক মিলে আপনার স্কোর হচ্ছে ৯৭.৬০। আর আপনার যে বন্ধুটি দুটোতেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন, তার স্কোর হচ্ছে ১০০। বুঝতেই পারছেন, স্কোরের ব্যবধান মাত্র ২.৪০। এই ব্যবধান ভর্তি পরীক্ষায় অনায়াসে উত্রানো সম্ভব, যদি আপনি এই শেষ সময়টুকু কাজে লাগাতে পারেন। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে উত্পাদিত বস্ত্রের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। আর সেই অনুপাতে গার্মেন্টসের সংখ্যাও বাড়ছে। বাড়ছে বায়িং হাউসও। বর্তমানে বায়িং হাউসগুলোতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কারণ এখনকার বায়িং হাউসগুলো হয়ে গেছে প্রযুক্তিনির্ভর। আর প্রযুক্তিগতভাবে সুতা তৈরি। কাপড় তৈরি। কাপড়ে রং করা ও পোশাক তৈরিই হলো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের কাজ। এই কাজগুলো আবার ৪টি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যেতে পারে। ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং, ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং, ওয়েট প্রসেসিং ও গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং। ব্যাংকার সময়ের স্মার্ট পেশা ব্যাংকিং। সরকারি ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি দেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। সেই তুলনায় বাড়ছে ব্যাংকগুলোর সেবার মান। নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পেশা হিসেবে অনেকেই ব্যাংকিংকে প্রথম পছন্দে রাখেন। তবে আপনাকে এই পেশায় সফল হতে হলে অবশ্যই সদালাপি, মিশুক হতে হবে। ব্যাংকিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে আপনাকে অবশ্যই অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্সের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। ঢাবি, রাবি থেকে শুরু করে প্রায় সব ভার্সিটিতে স্নাতক সম্পন্ন করতে পারেন। পাশাপাশি প্রাইভেট ভার্সিটিতেও এই সাবজেক্টগুলোতে পড়তে পারেন। আর্কিটেকচার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টের নকশার কাজটা মূলত আর্কিটেক্টরা করে থাকেন। সব মিলিয়ে দেশে অবকাঠামো উন্নয়নে আর্কিটেক্টদের জুড়িমেলা ভার। চাইলে আপনিও একজন প্রকৌশলী হিসেবে দেশ গড়ার অংশীদার হতে পারেন। আর এ জন্য আপনাকে এইচএসসি শেষ করেই সরকারি পলিটেকনিকগুলোতে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। ফার্মাসিউটিক্যালস বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে তৈরি ওষুধের রফতানি বাড়ছে। সেই সঙ্গে এই পেশায় লোকবল নিয়োগও বাড়ছে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর সারাদেশে প্রচার-প্রসার-বিক্রির জন্য হাজার হাজার কর্মী প্রয়োজন। এই পেশায় আপনি অনেকটাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করতে গেলে আপনার পরিচিতির পরিধি যেমন বাড়বে তেমনি বাড়বে আপনার সামাজিক মর্যাদা। এ ছাড়াও এই পেশার আরেকটি বড় সুবিধা হলো মাস শেষে নির্দিষ্ট বেতনের পাশাপাশি আপনি টার্গেট ফিলাপ করতে পারলে আপনার জন্য কমিশনেরও ব্যবস্থা থাকবে। সাংবাদিকতা :ছোটবেলায় টেলিভিশনের পর্দায় কোনো সংবাদ পাঠককে দেখে স্বপ্ন দেখতেন সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার গড়ার? তাহলে আপনার পালা। আপনি কড়া নাড়ছেন স্বপ্নের দরজায়। চাইলে আপনিও হতে পারেন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় একজন জনপ্রিয় সংবাদ পাঠক-পাঠিকা, একজন সফল প্রোগ্রামার মানে ডিরেক্টিং। আর প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকতার পাশাপাশি ফটোগ্রাফিও করতে পারেন। অতি শিগগিরই আসছে নতুন কয়েকটি চ্যানেল ও সংবাদপত্র। আর তাই দিনে দিনে সংবাদকর্মীদের চাহিদা ও কদর দুই বাড়ছে। সাংবাদিকতার স্বপ্ন পূরণ করতে চাইলে এইচএসসির পরই ঢাবি, জবিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে ভর্তি হতে পারেন। এ ছাড়াও বেশকিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকতা, ফটোগ্রাফিতে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। অখণ্ড অবসরে বসে না থেকে সেখানেও ভর্তি হতে পারেন।