সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আপনি

প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবনে যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেন এক রিফ্রেশমেন্ট। এইসব অনুষ্ঠানে প্রাণখুলে মজা করুন। তবে কোনো অনুষ্ঠানে কী পোশাক পরে যেতে হয় তার নিয়ম আছে। সব অনুষ্ঠানের নিজস্ব কিছু ডেকোরাম থাকে। এসব অনুষ্ঠানে কী কাপড় পরা উচিত, কোনটা পরা উচিত নয়; আপনার আচার-ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত; অন্যদেরকে কীভাবে অভিবাদন জানাবেন ইত্যাদি নানা বিষয়ে কিছু টিপস জানাচ্ছেন আহসান রনি  অনুষ্ঠানের উপর নির্ভর করে পোশাক বেছে নিন। ক্লাসিক্যাল সংগীতের অনুষ্ঠানে গেলে দেশীয় পোশাক পরতে পারেন। পিয়ানো রিসাইটালে গেলে ওয়েস্টার্ন পোশাক পরতে পারেন।  অনুষ্ঠানটি কোন সময় হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে পোশাক নির্বাচন করুন। অনুষ্ঠান যদি সকালে হয় তাহলে মেয়েরা হালকা শাড়ি বা সালোয়ার পরতে পারেন। দিনের বেলার জন্য সাদা, গোলাপি বা প্যাস্টল শেডের জামা-কাপড় বাছতে পারেন। হেভি মেকআপ করবেন না। ন্যাচারাল লুক নিয়ে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করুন। হালকা গয়না আপনার লুককে কমপ্লিট করে দেবে। ছেলেরা ডেনিমের উপর কুর্তা বা পায়জাম-পাঞ্জাবি ট্রাই করে দেখতে পারেন। ডার্ক কালার সকাল বেলায় অ্যাভোয়েড করাই ভালো। চটি আপনার এ পোশাকের সাথে ভালো মানাবে।  রাতের অনুষ্ঠানে মেয়েরা ট্র্যাডিশনাল শাড়ি পরতে পারেন। লাল, কালো বা অন্য কোনো গাঢ় রঙের পোশাক পরুন। খোলা চুল বা আলগা খোঁপা করুন। বর্তমান সময়ে মাটি মেকআপের ট্রেন্ড। হাঁটতে অসুবিধা না হলে হিল জুতা পরুন। ক্লাচ ব্যাগ নিতে পারেন। ছেলেরা ডেনিমের বাইরে বেরিয়ে এসে সাবেকি পায়জামা-পাঞ্জাবি পরতে পারেন। ট্রাউজারের সাথে পাঞ্জাবি অবশ্য বর্তমানে মানানসই পোশাক। ঘি রঙের ট্রাউজার ও লাল রঙের পাঞ্জাবি একদম পারফেক্ট।  অনুষ্ঠান কোথায় হচ্ছে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেটিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আপনার কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর বাসায় বসতে পারে যেকোনো গানের জলসা বা কবিতার আসর। এসব জায়গায় আপনার যে পোশাকগুলো পরে কম্ফোর্টেবল লাগে সেগুলো পরুন। তবে পোশাকটি একদম যেন বেমানান না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। জিন্সের সাথে মানানসই একটি লম্বা কুর্তা পরে নিতে পারেন। চুড়িদার বা কামিজও হতে পারে আপনার পছন্দ। কানে অল্প ঝোলা দুল এবং হাতে স্টাইলিশ ব্রেসলেট আপনার লুককে আরও ডিফাইন করবে। ছেলেরা চোস্ত বা পাঞ্জাবি পরতে পারেন। শার্ট-প্যান্ট পরলেও কোনো ক্ষতি নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন বেশি ফরমাল না হয়ে যায়। অভিবাদন  অনুষ্ঠান শেষে অবশ্যই শিল্পী বা শিল্পীদের অভিবাদন জানাবেন। যদি সম্ভব হয় ব্যাকস্টেজে গিয়ে দেখাও করতে পারেন। তবে শিল্পী যদি দেখা না করতে চান জোর করবেন না।  যদি আপনার কোনো পরিচিত ব্যক্তির অনুষ্ঠান হয় তাহলে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখানোর দরকার নেই। অনুষ্ঠান শেষে হঠাত্ স্টেজে উঠে যাবেন না।  অটোগ্রাফ নেওয়ার থাকলে শান্তভাবে নিন। ধাক্কাধাক্কি করবেন না, এতে শিল্পী অসন্তুষ্ট হতে পারেন। আচার-ব্যবহার  অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই ঢোকার চেষ্টা করুন। মাঝখানে ঢুকলে বাকি সদস্যদের অসুবিধা হতে পারে।  অনুষ্ঠান চলাকালীন পাশের কারো সাথে কথা বলার চেষ্টা করবেন না। এতে শুধু আশপাশে লোকজন বিরক্ত হন তা না, যিনি পারফর্ম করছেন তার প্রতি অশ্রদ্ধা করা হয়।  অনুষ্ঠানের মাঝে উঠে চলে যাবেন না। আপনার ভালো না লাগলেও অন্তত বিরতি পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। না হলে শিল্পীদের মনোযোগ নষ্ট হয়।  অনুষ্ঠানের মাঝে হঠাত্ করে হাততালি দেবেন না। অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। যদি অনেক শিল্পী উপস্থিত থাকে তাহলে পরিবেশনার শেষে হাততালি দিন। সেলফোন বা অন্যান্য  অনুষ্ঠানে সেলফোন বন্ধ রাখাটাই উপযুক্ত। বন্ধ করতে না চাইলে অবশ্যি সাইলেন্ট করে রাখুন।  যদি কোনো জরুরি কাজে ফোন আসে বাইরে গিয়ে ফোনে কথা বলবেন। ভিতরে কথা বলে বাকি দর্শকদের বিরক্ত করবেন না। খুব প্রয়োজন না থাকলে ঘন ঘন মেসেজ করবেন না।  হলের ভিতর খাওয়া নিষেধ থাকলে খাবার নিয়ে যাবেন না। ক্ষুধা পেলে বাইরে গিয়ে খেয়ে নিন। আর যদি ভেতরে খান তবে খাবার ফেলে সিট বা ফ্লোর নোংরা করবেন না।  ছবি তোলা নিষেধ থাকলে চুপি চুপি ছবি তোলার চেষ্টা করবেন না। ভিডিও করা থেকেও দূরে থাকুন।  অনুষ্ঠানে খুব ছোট বাচ্চা না নিয়ে আসাই ভালো। কারণ বাচ্চারা কিছুক্ষণ পরপর কান্নাকাটি শুরু করে। যা শুধু আপনাকেই নয়, বাকি দর্শকদেরও বিব্রত করতে পারে।