ঘরে থাকুক প্রকৃতির ছোঁয়া
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৪, ১৯:৪৫
প্রত্যেকে তার নিজের বাড়িকে সুন্দর করে সাজাতে কমবেশি চেষ্টা করেন। হোক না সে বড় বাগান ঘেরা কিংবা দুই রুমের ছোট ফ্ল্যাট। কয়েক বছর আগের এদেশের প্রতিটি বাড়ির সামনে খোলা জায়গা, ফুল আর ফলের বাগান থাকত। যাদের বাড়িতে বাগান থাকত না তারা ছাদে একটি বাগান করে রাখতেন। সকলেই গাছের ছোঁয়া পেতে চান এবং এই কারণেই বাড়ির আশপাশে গাছ লাগান অনেকে। সময় বদলেছে এবং মানুষও তাদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আগের দিনের সেই খোলামেলা বাড়িও নেই, তার জায়গায় গড়ে উঠেছে আধুনিক ফ্ল্যাট। বাড়ির সামনের খোলা অংশে আর ছাদে বাগান করার শখের জায়গাগুলোও এখন সীমিত হয়ে পড়েছে। কমে যাচ্ছে গাছ আর শীতলতা। বর্তমান সময়ে বাড়ির আশপাশে গাছের সংখ্যা কমে গেলেও ঘর সাজাতে অনেকে গাছ ব্যবহার করছেন। জায়গার অভাবে বাড়িতে বড় গাছ লাগানোর সুযোগ না থাকলেও ছোট ছোট গাছ দিয়ে আপনি সাজাতে পারেন আপনার ফ্ল্যাট। ব্যস্ত জীবনে একটু শীতলতার পরশ আনতে সবুজে সাজাতে পারেন আপনার বাড়ি। আপনার ফ্ল্যাটের আয়তন যেমন হোক, একটু পরিকল্পনা করে পুরো বাড়ি সাজাতে পারেন ছোট-বড় বিভিন্ন ইনডোর প্লান্টস দিয়ে। বাড়ির বারান্দা, রান্নাঘর, বাথরুম থেকে শুরু করে সব জায়গায় গাছ রাখতে পারেন। বারান্দায় একটু বড় গাছ রাখা যায়, তবে বাড়ির অন্যান্য স্পেসে রাখতে হবে ছোট গাছ। বসার ঘর বা ড্রইং রুমে রাখতে পারেন বনসাই। ঘর সাজাতে ইনডোর প্লান্টস কীভাবে ব্যবহার করা যায় এ বিষয়ে ইনটেরিয়র ডিজাইনার ফারজানা গাজী বলেন, ‘বারান্দায় নিজের ইচ্ছামতো বাগান করা গেলেও ঘরের প্লান্টস একটু ভেবেচিন্তে রাখা উচিত। আপনার বারান্দা যদি ছোট হয়, তবে বারান্দার দেয়ালে নানারকম ঝুলন্ত গাছ দিয়ে সাজাতে পারেন। পাম ট্রি, অর্কিড আর বিভিন্ন রকম ফুল গাছ ছোট টবে লাগাতে পারেন। ছোট বারান্দায় বেশি টব রাখলে ভালো লাগবে না। বাথরুমের জানালায় রাখতে পারেন মানি প্লান্টস। এক্সেসরিজ রাখার র্যাক আর বেসিনের পাশে খুব ছোট টবে রাখতে পারেন ক্যাকটাস। আপনি যদি অনেক গাছ দিয়ে আপনার বাড়ি সাজাতে চান তবে ঘরের রং হালকা হলে ভালো হয়। গাছ যান্ত্রিক জীবনে ঘরে এনে দিতে পারে প্রশান্তির ছোঁয়া। শখে হোক আর প্রয়োজনে হোক আপনার ছোট নীড়টি সাজাতে পারেন গাছ দিয়ে। গাছ খুব সহজেই আপনার ঘরের ইন্টেরিয়র বদলে দিতে পারে। বাইরের ব্যস্ততা শেষে ঘরে ফিরে দেখবেন কেমন প্রশান্তির ছোঁয়া এনে দেবে ছোট কয়েকটি ইনডোর প্লান্টস। যদি আসবাবের উচ্চতা কম হয় তবে গাছ একটু বড় রাখলে ভালো লাগবে। বসার ঘরের সোফার পাশে, ঘরের কোণে আর ডাইনিংয়ের পাশে গাছ রেখে ঘর সাজাতে পারেন। বেডরুমেও আপনি গাছ রাখতে পারেন। লম্বা পাতাযুক্ত পাতাবাহার গাছ। এ গাছগুলো ছোট গ্লাসে পানিসহ রাখতে পারেন। এসব গাছ পানিতে অনেকদিন থাকে। ডাইনিং স্পেসের পাশের বেসিনের দেয়ালে ঝুলন্ত গাছ রাখতে পারেন। আপনার ঘর ছোট-বড় যেমনই হোক না কেন শো-পিসের পাশাপাশি গাছ দিয়ে ঘর সাজিয়ে বাড়িতে আনতে পারেন প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিকেলের অবসর সময়টুকু কাটাতে পারেন গাছের পরিচর্যা করে।
ইন্ডোর প্লান্টের যত্ন
সপ্তাহে অন্তত একদিন সব গাছ রোদে দিতে হবে। কারণ একটা গাছের ঠিকমতো বেড়ে ওঠা এবং বেঁচে থাকার জন্য সূর্যের আলো জরুরি। তবে দুপুরের কড়া রোদে গাছ রাখবেন না। সকালের হালকা রোদে গাছ রাখুন।
গাছে ঘন ঘন পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত পানি দিলে গাছ পচে যেতে পারে। পানি দেওয়ার সময় টবের মাটি আর্দ্র আছে কি-না, লক্ষ করুন। কিছু গাছে সকাল ও বিকেল দু’বেলা পানি দিতে হয়। আবার কিছু গাছে সকালে পানি দিলেই চলে।
গাছের পাতা ও ফুলের রং হালকা হতে থাকলে ঠাণ্ডা ও আলো কম পৌঁছায় এমন জায়গায় রাখুন। কারণ অতিরিক্ত আলো ও তাপের সংস্পর্শে এসে গাছের পাতা ও ফুলের রঙ হালকা হয়ে যায়।
গাছের পাতায় বেশি ধুলো জমলে জোরে ঘসবেন না, নরম কাপড়ে অল্প পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন। অথবা স্প্রে করে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। পাতার নিচের অংশও পরিষ্কার করুন। ধুলো-ময়লার সঙ্গে পোকা বাসা তৈরি করে পাতায়।
যে রুমে ফ্যান বেশি চলে সে রুমের গাছগুলো একদিন পর পর বাইরে রাখুন। রাতের বেলা গাছগুলো বারান্দায় রাখতে পারেন সকাল পর্যন্ত এতে প্রাকৃতিক বাতাসে গাছ ভালো থাকবে।
পচা পাতা, হলুদ বা খয়েরি কাণ্ড গাছের কাছে না জমিয়ে রেখে ফেলে দিন। গাছের টব বদলানোর সময় লক্ষ রাখবেন যাতে শিকড় নষ্ট না হয়। নিয়ম করে পুরনো পাতা বা একটু নষ্ট হয়ে যাওয়া পাতা পরিষ্কার করে ফেলুন।
ইনডোর প্লান্টসের বৃদ্ধি অন্যান্য গাছের তুলনায় একটু কম হয়।
রাতে গাছ কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়ে তাই সম্ভব হলে রাতে গাছগুলো বাইরে রাখুন। আবার সকালে ঘরে নিয়ে আসুন। আর যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে ঘরের জানালা খোলা রাখুন।