কেওলার হাওরে কৃষি উত্পাদন ব্যাহতের আশঙ্কা

নদী থেকে বালু উত্তোলন ও উসমান এগ্রো ফার্মের উদ্যোগ কেওলার হাওরে কৃষি উত্পাদন ব্যাহত ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন অপরিকল্পিত কার্যক্রমে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ও রূপষপুর ইউনিয়নের কেওলার হাওর অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। ফলে হাওরে মত্স্য প্রজনন, কৃষি উত্পাদন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। উপজেলার পতনঊষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নে অবস্থিত কেওলার হাওর মত্স্য প্রজনন ও কৃষি উত্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই হাওরের উপর নির্ভর করে স্থানীয় ভূমিহীন, কৃষি ও মত্স্যজীবীরা যুগ যুগ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে অসাধু লোকজন হাওরের মাঝদিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। হাওরটিতে বাড়ি ও গাছ বাগানও গড়ে উঠতে দেখা গেছে। বর্তমানে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল হাওরের সরকারি ভূমি ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে উসমান এগ্রো ফার্ম স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগে স্থানীয় লোকজন হাওরের মত্স্য প্রজনন ও উত্পাদন ক্ষেত্র নষ্ট না হওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকার বিগত সময়ে ওই হাওরে কিছু ভূমি লীজ ও ভূমিহীনদের দান করেন। অবশিষ্ট অংশ সরকারের খাস জমি হিসাবে এলাকাবাসী ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু সকল ভূমিহীন ওই খাসভূমি দখলে নিতে পারেননি। হাওর প্রকল্পের আওতায় প্রতিবছর উপজেলা মত্স্য বিভাগ মাছের পোনাও অবমুক্ত করে আসছে। এলাকাবাসী জানান, হাওরের ভূমি দখলকারী লোকজন মেসার্স শাহ উসমান এগ্রো ফার্ম লি. নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছে। যার কোন অস্তিত্ব ও ব্যবসায়ী কোন প্রতিষ্ঠান পরিচালিত নয়। হাওরের খাস জমি বন্ধক রেখে বিভিন্নভাবে ব্যাংক হতে ঋণ উত্তোলন করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এলাকাবাসী তাদের জীবিকা নির্বাহে মত্স্য আহরণ ও কৃষি উত্পাদনকৃত ভূমিকে মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত সোমবার পতনঊষার ঊষার ইউনিয়ন মিলনায়তনে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বিবাদীদেরকে এগ্রো ফার্ম কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন। কমলগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মত্স্য কর্মকর্তা মো. আসাদউল্লাহ বলেন, এমনিতেই কমলগঞ্জের সকল জলভূমি বিনষ্ট হয়ে গেছে। কেওলার হাওরটিও ভরাট হচ্ছে। তার উপরে এসকল কার্যক্রম মত্স্য প্রজনন ও উত্পাদনের বাধাগ্রস্ত হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, তিনি বিবাদীপক্ষের দাখিলকৃত কাগজপত্র প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করেছেন। এতে সন্দেহাতীত বলে প্রতীয়মান হয়েছে বিধায় সরকারি ভূমিতে আপাতত উসমান এগ্রো ফার্ম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।