কাতার প্রবাসী পারুলের দেশে ফেরার আকুতি

‘মা গত ১৫ দিন ধরে আমি অভুক্ত’। যে পরিবারে আছি তারা সকালে কেবল এক পিস পাউরুটি খেতে দেয়। দিনের বেশির ভাগ সময় অভুক্ত থাকতে হয়। একজন বাঙালির মাধ্যমে ১ কেজি চাল কিনে এনেছি। তাই জিবিয়ে খাচ্ছি। আমি বাঁচতে চাই। তুমি আমাকে দেশে ফিরিয়ে নেও’। এ কথাগুলো বলছিলেন, দালালের খপ্পরে পড়ে কাতারে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা জীবননগর উপজেলার পাথিলা গ্রামের পারুল আক্তার (৩২)। দালাল প্রথমে তাকে দুবাই পাঠালেও সেখান থেকে আবার তাকে দ্বিতীয় দফায় কাতারে বিক্রি করে দেয়া হয়। কাতারে এক পরিবারের নিকট খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে বেঁচে আছেন। পারুল বাংলাদেশ সরকারের কাছে দেশে ফেরার আকুতি জানান। পারুলের মা সুফিয়া বেগম বলেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের দালাল আলমগীর হোসেনের মাধ্যমে চলতি বছরের ১৬ মে ৩ সন্তানকে রেখে পারুল দুবাই যায়। দুবাইয়ে এক পরিবারের অমানুষিক নির্যাতনে সে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ওই পরিবার তাকে কাতারের এক পরিবারের নিকট বিক্রি করে দেয়। সেখানে কাজ করতে না পারার কারণে ওই পরিবারও তারওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এমনকি খাবারও খেতে দেয় না। তিনি আরো জানান, ঈদের দিন পারুলের সাথে শেষ কথা হয়। এরপর থেকে পারুলের সাথে আর কোন যোগাযোগ নেই। জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ অদ্যবধি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। জীবনগর থানার ওসি (তদন্ত) শাখাওয়াত্ হোসেন জানান, অভিযোগকারী সুফিয়া বেগম অভিযোগ নিয়ে আসছিলেন। তাকে পরে আসতে বলা হয়েছিল। তিনি আর আসেননি।