দাকোপ খালে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো

খুলনার দাকোপের বাজুয়া ও দাকোপ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রাসখোলা নামক স্থানে দাকোপ খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই খালের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের গ্রামবাসীর দাবি আজো পর্যন্ত পূরণ হয়নি।  স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।  

সরেজমিনে এলাকাবাসীসূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত্ দাকোপ খালের ওপর জরাজীর্ণ ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকার শত শত মানুষ প্রতিদিন পারাপার হয়ে আসছে। এছাড়া সাঁকোটির ওপর দিয়ে দাকোপ, কাঁকড়াবুনিয়া, ভাদলাবুনিয়া, ওড়াবুনিয়া, সাহেবেরআবাদ, বাজুয়াপশ্চিমপাড়া, কচা, বরুইতোলা ও চুনকুঁড়ি এলাকার অসংখ্য মানুষ রাসখোলার পুকুর থেকে প্রতিদিন রান্না ও খাবার পানি সংগ্রহ করে। ওই সাঁকো পারাপার হয়ে ২/৩শ ছাত্র-ছাত্রী কাঁকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে থাকে।

কাঁকড়াবুনিয়া রাসখোলা এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিত মন্ডল বলেন, জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকার শত শত লোক প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে এখানে বারবার একটি ব্রিজের দাবি করে আসছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ভবেন্দ্রনাথ মন্ডল জানান, ব্রিজের বিষয় নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন বিভিন্ন মহলে দরখাস্ত দিয়েছি। ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কাঁকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, এখানে একটি ব্রিজ হলে ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকাবাসীর অনেক উপকার হবে।

রাস মেলা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রাধাকান্ত মন্ডল জানান, এখানে বিদ্যালয়, সার্বজনীন মন্দির, ক্লিনিক রয়েছে যে কারণে ওই স্থানে একটি ব্রিজের অতি জরুরি প্রয়োজন। তা ছাড়া এখানকার একমাত্র পুকুর থেকে অত্র অঞ্চলের অনেক মহিলা রান্না ও খাবার সংগ্রহ করে থাকে। রাস মেলার সময় এখানে বহুলোকের সমাগম ঘটে। এ সময় সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেকের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায় বলেন, আমি মন্ত্রণালয়ে লিখিত দরখাস্ত দিয়ে যোগাযোগ করেছি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি শুকনো মৌসুমে ব্রিজের কাজ শুরু হবে।