ময়মনসিংহ-গফরগাঁও-টোক সড়কের আবারো বেহালদশা
আতাউর রহমান মিন্টু, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২১:২৬
পুরো রাস্তাটাই এবড়ো-থেবড়ো, অসংখ্য খানা-খন্দে ভরা। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার পিচ উঠে গেছে। ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ময়মনসিংহ-গফরগাঁও-টোক (খান বাহাদুর ইসমাইল রোড়) সড়কটির বর্তমান এমনই বেহাল অবস্থা। যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ। মালবাহী ট্রাক চালকরা আসতে চায় না। হাতেগোনা কয়েকটি সিএনজি অটোরিক্সা ও যাত্রীবাহী মেক্সী যাতায়াত করলেও সড়কের দুরাবস্থার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে জীবন ও সম্পদের। অভিযোগ রয়েছে জরুরি সংস্কার কাজের নামে লুটপাটের কারণে বার বার মেরামতের পরও সড়কটির বেহালদশা যাচ্ছে না।
সরেজমিন দেখা যায়, ময়মনসিংহ থেকে খুরশীদমহল ব্রিজ (হোসেনপুর সেতু) পর্যন্ত এ সড়কের ৫৪ কিলোমিটার রাস্তার পুরোটাই খানা-খন্দে ভরা। বিশেষ করে বাকৃবি শেষ মোড়, বালিপাড়া, ধলা, কালিবাজার, ভাবখালী, সুতিয়াখালী, গফরগাঁও পৌর এলাকা, তেঁতুলিয়া, ইমামবাড়ি, দুগাছিয়া, তারাটিয়া, গলাকাটা, আমাটিয়া, খুরশীদ মহলসহ প্রায় শতাধিক স্থানে খানা-খন্দে ভরা। এ অংশটুকু মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগ মেসার্স এমএম বিল্ডার্স নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে কার্যাদেশ দেয়। নিয়ম ভঙ্গ করে মেসার্স শামিম এন্টারপ্রাইজ সাব কন্ট্রাক্ট নিয়ে ২০১২ সালের জুন মাসে কাজটি সম্পন্ন করে। কিন্তু বেহাল অংশের অধিকাংশ জায়গায় সংস্কার না করে চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করায় কয়েক মাস পরেই সড়কটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গত এপ্রিল মাসে এই সড়কের গফরগাঁও পৌরশহরের হাসপাতাল রোড এলাকা থেকে বাগুয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত ১ কিলোমিটার মেসার্স শহিদুল ইসলাম নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত করে। কাজ চলাকালে স্থানীয় লোকজন সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুললেও সওজ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ঐ সময় সঠিকভাবে কাজ না করায় ১ মাস পরেই সামান্য বৃষ্টিতেই মেরামত করা সড়কটি ভেঙে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
কাজের কথা অস্বীকার করে বলেন, চলতি অর্থ বছরে এ সড়কে বড় ধরনের সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দ নেই। বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষ এই সড়কের সংস্কার কাজ করা হবে।