বিশ্বের প্রথম স্মার্টফোনের দুই দশক পূর্তি
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৪, ১৮:৫২
স্মার্টফোন বলতেই এখন আমাদের মনের ভেতর ভেসে ওঠে অ্যান্ড্রয়েড কিংবা আইফোন। এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে এসব স্মার্টফোন কিন্তু বিশ্বের মোবাইল ফোনের বাজারের সিংহভাগই দখল করে নিয়েছে। বলতে গেলে আইফোনের মাধ্যমেই এসব আধুনিক স্মার্টফোনের যাত্রার শুরু। তবে ডিভাইস হিসেবে স্মার্টফোনের বয়স এতটা কম নয়। আইফোন বাজারে আসারও প্রায় এক যুগ আগে বিশ্বের সাথে প্রথম স্মার্টফোনের পরিচয় হয়। শুনতে অবাক হলেও বিশ্বের প্রথম এই স্মার্টফোনের নির্মাতা ছিল আইবিএম। আর প্রথম সেই স্মার্টফোনের নাম ছিল ‘আইবিএম সাইমন পার্সোনাল কমিউনিকেটর’। সাধারণ মোবাইল ফোনের চাইতেও বেশি কিছু ফিচার নিয়ে বিশেষ করে ব্যবসায়িদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সাইমন। আবার উচ্চমূল্যের কারণে শেষ পর্যন্ত এটি জনসাধারণের কোনো ডিভাইস হয়ে উঠতে পারেনি।
বিশ্বের প্রথম স্মার্টফোনের যাত্রা
১৯৯৪ সালের ১৬ আগস্ট আইবিএম বাজারে ছাড়ে সাইমন পার্সোনাল কমিউনিকেটর। এর আগেই ১৯৯২ সালে কমডেস্ক শোতে আইবিএম অ্যাংলার নামের একটি ফোন প্রদর্শন করে। তত্কালীন মোবাইল ফোনের বিভিন্ন ফিচারের সাথে প্রোটোটাইপ সেই ফোনে যুক্ত করা হয়েছিল পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ড বা পিডিএ’র বিভিন্ন সুবিধা। সেসময় বেশ আলোচিত হয় প্রোটোটাইপ ফোনটি। বছর দুয়েকের গবেষণার পর অবশেষে ১৯৯৪ সালে আইবিএম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনার উপযোগী করে স্মার্টফোনের ডিজাইন চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয় আইবিএম। ওই বছরের মে মাস থেকে এটি বাজারে ছাড়া হলেও সফটওয়্যারের জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত এর বিক্রির জন্য আগস্ট মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। শুরুতে বেলসাউথ ২ বছরের চুক্তিতে এই ফোনের দাম রাখে ৯০০ ডলার। আর চুক্তি ছাড়া কেবল ফোনটির দাম ছিল ১১০০ ডলার। পরে অবশ্য বেলসাউথ ২ বছরের চুক্তিতে এর দাম কমিয়ে রাখে ৬০০ ডলার। মজার বিষয় হলো, তখনও পর্যন্ত স্মার্টফোন শব্দটির প্রচলনই শুরু হয়নি। ১৯৯৭ সালে এসে স্মার্টফোন শব্দটির সাথে প্রথম পরিচয় হয় বিশ্ববাসীর সাথে। কিন্তু সাইমন পার্সোনাল কমিউনিকেটরে যেসব ফিচার যুক্ত ছিল, তার ভিত্তিতে একেই বিশ্বের প্রথম স্মার্টফোনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সাইমনের ফিচার
সাধারণ ফোনের সব ফিচার স্বাভাবিকভাবেই ছিল সাইমনে। তবে এর বাইরেও এতে যুক্ত করা হয়েছিল বেশকিছু ফিচার। ফ্যাক্স, ইমেইল এবং সেলুলার পেজেস সেবা গ্রহণ করা যেত সাইমনের মাধ্যমে। তখনকার বিভিন্ন মোবাইল ফোনের চেয়ে বাড়তি সুবিধা হিসেবে এতে আরও ছিল অ্যাড্রেস বুক, ক্যালেন্ডার, অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলার, ক্যালকুলেটর, ওয়ার্ল্ড টাইম ক্লক, ইলেক্ট্রনিক নোটপ্যাড, হ্যান্ডরিটেন অ্যানোটেশন বা হাতের লেখা সংরক্ষণের সুবিধা এবং বিশেষ ধরনের কিবোর্ড যাতে স্টাইলাস ব্যবহার করে ইনপুট প্রদান করা যেত। এই কিবোর্ড আবার লেখার সময় শব্দ অনুমান করেও বলে দিতে পারত এখনকার প্রেডিক্টিভ কিপ্যাডের মতো।
অ্যাকসেসরিজ
সাইমনের প্রতিটি প্যাকেজের সাথে ছিল চার্জিং বেজ স্টেশন, দুইটি নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি এবং একটি প্রোটেক্টিভ লেদার কভার। বাড়তি অ্যাকসেসরিজ হিসেবে ছিল মটোরোলার পিসিএমসিআইএ পেজার কার্ড, কম্পিউটারের সাথে সংযোগের জন্য আরএস২৩২ অ্যাডাপ্টার ক্যাবল এবং পটস ল্যান্ড লাইন থেকে ভয়েস ও ডাটা কল করার জন্য আরজে১১ অ্যাডাপ্টার ক্যাবল।
অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ্লিকেশন
ডাটালাইটের রম-ডস অপারেটিং সিস্টেম এবং স্ট্যাকার কোম্পানির ফাইল কম্প্রেশন সফটওয়্যার ব্যবহূত হতো সাইমনে। এর জন্য অনন্য একটি টাচস্ক্রিনও তৈরি করেছিল আইবিএম। পিসিএমসিআইএ কার্ড ব্যবহার করে কিছু থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারেরও সুবিধা ছিল সাইমনে।
তরিকুর রহমান সজীব