বিজ্ঞানের কিছু প্রয়োজনীয় আবিষ্কার

গত এক সহস্র বছরে বিজ্ঞান এমন হাজারেরও বেশি আবিষ্কার আমাদের উপহার দিয়েছে যা ছাড়া এখন আমাদের জীবন কল্পনাই করা যায় না । কিন্তু প্রশ্ন হলো কোন আবিষ্কারগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন? কোন আবিষ্কারগুলো বিজ্ঞানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে? কোনগুলো প্রযুক্তির নতুন ধারার সূচনা করেছে? আজ এমনই কিছু আবিষ্কার নিয়ে লিখেছেনপ্রাঞ্জল সেলিম প্রথমেই বিশেষ ভূমিকায় রয়েছে বিদ্যুত্ বিদ্যুত্ নিঃসন্দেহে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা আবিষ্কার। বিদ্যুত্ ছাড়া বর্তমান বিজ্ঞান কল্পনাও করা যায় না। শুধু বিদ্যুত্ কেন, বিদ্যুতের মাধ্যমে পরবর্তীতে যেসব যন্ত্র আবিষ্কৃত হয় তার সবকটিই ইতিহাসের অন্যতম সেরা আবিষ্কার। বিদ্যুত্ আবিষ্কারে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন থমাস আলভা এডিসন। তার বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই বিদ্যুতের আবিষ্কার। ১৮৮২ সালে এডিসনই প্রথম বিদ্যুত্ উত্পাদনের স্টেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তবে বিদ্যুতের উপর গবেষণা শুরু হয় ১৬ শতকের দিকে। ১৮ শতকের মধ্য দিকে আমেরিকান বিজ্ঞানী বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন প্রথম বিদ্যুতের উপর ব্যবহারিক গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু এসময় নিরবছিন্ন বিদ্যুত্ পাওয়া যেত না। শুধুমাত্র সাময়িক সময়ের জন্যই বিদ্যুত্ ব্যবহার করা যেত। ১৮৪০ সালে আবিষ্কৃত টেলিগ্রাফও ব্যাটারির মাধ্যমে চালানো হতো। এরই মাঝে ফ্যারাডের একটি আবিষ্কারের সূত্র ধরেই ১৮৩১ সালে ডায়নামো আবিষ্কার করা হয়। কম্পাস কম্পাস অর্থাত্ দিক নির্দেশক যন্ত্র সম্পর্কে সবারই কমবেশি জানা আছে। সূচালো শলার উপর সরু চুম্বকের পাত বসিয়ে কম্পাস তৈরি করা হয় যেখানে চুম্বকপাতের প্রান্ত দুটি সর্বদা উত্তর-দক্ষিণ দিক নির্দেশ করে থাকে। এই কম্পাস আবিষ্কারের পেছনেও রয়েছে বিশাল ইতিহাস। ইউরোপিয়ানরা যখন প্রথম আমেরিকায় যাবার পরিকল্পনা শুরু করে তখনই তারা একটা দিক নির্দেশক যন্ত্রের অভাব অনুভব করে। তারা পরিষ্কার দিনের আকাশের সূর্য কিংবা রাতের আকাশের নক্ষত্র বিশেষ করে নর্থ স্টার বা উত্তর নক্ষত্রের অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করতেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে আকাশ পরিস্কার না থাকলে কিংবা ঝড় বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দিক নির্ণয় করা শুধু কষ্টসাধ্যই নয়, অনেকটা অসম্ভব ছিল যা তাদেরকে কম্পাস আবিষ্কারে আরও উদ্বুদ্ধ করে। যান্ত্রিক ঘড়ি যেই ঘড়ি ছাড়া আমাদের একটা দিনও চলে না কখনো কী ভেবে দেখেছি এই ঘড়ি কে আবিষ্কার করেছেন? ইতিহাসেও এই মূল্যবান আবিষ্কারটির আবিষ্কারক হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম পাওয়া যায় না। তবে সূর্য ঘড়ির ব্যবহার শুরু অনেক কাল আগে থেকেই। ধারণা করা হয় মিশরীয়রাই প্রথম প্রকৃতিনির্ভর অর্থাত্ সূর্য-ঘড়ি নির্মাণ করেছিল আর ১৪ শতাব্দীতে এসে ইউরোপিয়ানরাই এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রথম যান্ত্রিক ঘড়ি আবিষ্কার করেন। লেন্স আবিষ্কার চশমা বা লেন্সের ব্যবহার আজ একটা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কিংবা যে ক্যামেরা দিয়ে আমরা হাজরো স্মৃতি সংরক্ষণ করি। লেন্স আবিষ্কার না হলে প্রিন্টিং প্রেস আবিষ্কারও বিলম্বিত হতো। ইতিহাসের মতে প্রথম যে লেন্স আবিষ্কৃত হয় তা শুধুমাত্র মানুষের চোখের জন্যই ব্যবহার করা যেত। ১৩ শতাব্দীর দিকে ইতালিতেই প্রথম মানুষের চোখে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত লেন্সের ব্যবহার শুরু হয়। তবে এখানেও ধারণা করা হয় যে ইতালিতে ব্যবহার করা এই উন্নত সংস্করণের চশমার পূর্বে চীনারাই প্রথম চশমার ব্যবহার শুরু করে। কিন্তু মানের দিক থেকে ইতালিয়ানদের সংস্করণের তুলনায় চীনাদের সংস্করণটি নিম্নমানের হওয়ায় ইতালিই ইতিহাসে স্থান করে নেয়। ওয়াইফাই কমিউনিকেশন বর্তমানে বিজ্ঞান অনেকাংশই ওয়ারলেস কমিউনিকেশন বা তারহীন যোগাযোগব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেট, মোবাইল, জিপিএস, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, ওয়াইম্যাক্স এসবই তারহীন যোগাযোগব্যবস্থার একেকটি রূপ যা ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি কল্পনাও করা যায় না। আর এসবের শুরুটা হয়েছিল রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে। রেডিও ওয়েভ হলো আলোক রশ্মি, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি, অতিবেগুনি রশ্মি, ইনফ্রারেড রশ্মি এবং এক্সরে রশ্মিরই আরেকটি রূপ। ১৮৮৮ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিক হার্টজ প্রথম রেডিও ওয়েভ আবিষ্কার করেন।