৭ দিনের সাত জানা
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২৬
ড্রাই আইস
বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মতো ধোঁয়ার সৃষ্টি করা হয়। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস। ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মতো দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে।
পেসমেকার
হূিপণ্ডে পেসমেকার প্রতিস্থাপনের কথা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। পেসমেকার হচ্ছে এমন এক ধরনের ডিভাইস যেটি অনিয়ন্ত্রিত হূদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণত হূদস্পন্দন কমে গেলে সেটাকে বাড়ানোর জন্য পেসমেকার লাগানো হয়। এই পেসমেকারে আসলে একটি লিথিয়াম ব্যাটারি লাগানো থাকে। আর এটি হূিপণ্ডের সাথে শিরার মধ্য দিয়ে তার দ্বারা সংযুক্ত থাকে। মানুষের স্বাভাবিক হূদস্পন্দন মিনিটে ৬০-৯০।
পেঁয়াজ কাটার সাথে চোখে পানি আসার কী সম্পর্ক
রান্না করার সময় পেঁয়াজ কাটতে গেলে, প্রায় সবারই চোখ বেয়ে অশ্রু পড়ে। আসলে, পেঁয়াজে সালফারযুক্ত বিভিন্ন ধরনের যৌগ থাকে, এর মধ্যে একটি হলো অ্যামিনো অ্যাসিড সালফোক্সাইড। পেঁয়াজ কাটলে এর কোষের ভেতরের অ্যালিনেজ নামক এনজাইম বের হয়ে আসে। এটি যৌগগুলোকে উদ্বায়ী সালফোনিক অ্যাসিডে পরিণত করে; যা চোখের পানির সংস্পর্শে আসামাত্র চোখে পানি আনে। সহজ কথায়, চোখের পানির সংস্পর্শে মৃদু সালফিউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়, তাই চোখ জ্বালাপোড়া করে।
কৃত্রিম বৃষ্টি
কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত করার কথা প্রথম ভেবেছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানী ভিনসেন্ট শায়েফার। তিনি বাতাসের জলীয় বাষ্পকে জমাট বাঁধিয়ে মেঘ বানাতে ব্যবহার করেছিলেন জমাট বাঁধা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের টুকরা। তিনি বার্কশায়ার পাহাড়ের কাছে ড্রাই আইস ছুঁড়ে দিয়ে তুলোর মতো মেঘ বানাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
চাঁদে কেন বায়ুমণ্ডল নেই?
যখন কোনো গ্রহ বা উপগ্রহ গ্যাসীয় অবস্থা থেকে আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা হয়ে কঠিন আকার ধারণ করে গোলাকার রূপ নেয় তখন কিছু গ্যাস বাইরে ওই অবস্থায়ই পড়ে থাকে। আর সেই গ্যাস থেকেই পরবর্তীতে কোনো গ্রহের বায়ুমণ্ডল গড়ে ওঠে। এক সময় চাঁদেরও বায়ুমণ্ডল ছিল। কিন্তু চাঁদ তা ধরে রাখতে পারেনি। কারণ, বায়ু হলো কিছু সংখ্যক গ্যাসের মিশ্রণ।
মেরুপ্রভা অরোরা
অরোরা বা মেরুজ্যোতির নাম অনেকেই শুনেছি। অরোরা হলো মেরু অঞ্চলের আকাশে দৃশ্যমান অত্যন্ত মনোরম এবং বাহারী আলোকছটা। সাধারণভাবে বলতে গেলে, বায়ুমণ্ডলের থার্মোস্ফিয়ারে থাকা অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পরমাণুর সাথে ম্যাগনেটোস্ফিয়ার থেকে আসা চার্জিত কণিকাসমূহের সংঘর্ষের ফলেই অরোরা তৈরি হয়। এসব অভ্যন্তরীণ শক্তি যখন আলোকশক্তি হিসেবে বিকরিত হয়, তখনই মেরুজ্যোতি দেখা যায়।
বিড়ালের পানি পান
বিড়াল জিভ দিয়ে পানি পান করার সময় পানিতে তেমন কোনো আলোড়ন তৈরি হয় না কিংবা কোনো শব্দ হয় না। অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে হয়। তরল পদার্থের উপর বিড়াল অনেক কম বল প্রয়োগ করে। অন্য প্রাণী পানি পান করার সময় তাদের জিহ্বা সামনের দিকে ঠেলে দিয়ে তার সাহায্যে পানি তুলে মুখ নেয়। কিন্তু বিড়াল পানি পানের সময় জিহ্বা সামনের দিকে না ঠেলে পিছনের দিকে নিয়ে যায় আর অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে জিহ্বা দিয়ে পানি তুলে নেয়। আর এ কারণেই বিড়ালের পানি পানের সময় তেমন কোনো আলোড়ন সৃষ্টি হয় না। তাই শব্দও তেমন হয় না।
গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল