আমার কথা কেউ শোনে না

তরুণ সময়টাই কিছুটা ভিন্ন রকমের। না ছোট না বড়। মাঝে মাঝে গুরুত্বপূর্ণ আবার কখনো কখনো গুরুত্বহীন। নিজের কথা বা সিদ্ধান্ত অন্যকে জানানোর ক্ষেত্রে অনেক সময়ই ভুগতে হয় সমস্যায় বা কিছুটা লজ্জায় বা কিছুটা সিদ্ধান্তহীনতা। এমনই দোদুল্যমান অবস্থায় নিজেকে সামলে নিতে পারলে সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব না হলে হানা দিতে পারে চরম বিপর্যয় বা হতাশা। এমনই অবস্থার নানা সমীকরণ নিয়ে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক রুমকি ভার্সিটি পড়ুয়া হলেও কিছুটা অন্তর্মুখী মেয়ে। সময়ের সাথে সাথে বন্ধুরা এগিয়ে গেলেও সে বসে আছে তার আগের জায়গাতেই। পড়াশোনায় মেধাবী হলেও বন্ধুদের আড্ডায় প্রায়ই সে কিছুটা বেমানান বা কিছুটা নিঃষ্প্রাণ। সেক্ষেত্রে বন্ধু মহলে খুব বেশি একটা স্থান তার নেই। প্রায়ই আড্ডার আলাপচারিতায় বন্ধুদের অবহেলা তাকে বেশ হতাশ করে তুলে। সে কারণে নিজেকে বেশ একা মনে হয় এবং নিজের মাঝেই নিজেকে বন্দি করে নেয় রুমকি। ওদিকে অহনা সামনের বছর ঢাকার নামকরা একটা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। ওর খুব শখ পরীক্ষার পর মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার জন্য কোচিং করবে, কিন্তু বাবার আগ্রহ মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি করবে। এদিকে অহনার মা মনে করেন, মেয়েকে এত পড়াশোনা করিয়ে কী হবে, বিয়ে দিয়ে দিলেই হয়। কিন্তু অহনা কিছুতেই যে তা মেনে নিতে পারছে না! এমন পরিস্থিতিতে বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করতে পারছে না সবকিছু। নিজের এতদিনের ইচ্ছে ডাক্তার হওয়ার, বাবাকে কোনোরকমেই নিজের আগ্রহের কথাটা বুঝাতে পারছে না। এমনই সমস্যায় প্রায়ই ভুগতে হয় তরুণদের। অনেক সময় আবার নিজের আত্মসম্মানের বিষয়টা বেশ গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়। কারণ আপনি আপনার নিজের ইচ্ছেটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন, কিন্তু বুঝতে পারছেন না, বা অন্যজন বুঝতে চাচ্ছে না। এছাড়াও এমন অনেকেই আছেন যারা বাইরে কোথাও কথা বলতে বেশ লজ্জা করে থাকেন। নিজেকে কোনোভাবেই প্রকাশ করতে পারেন না। বন্ধুদের আড্ডার আসরেও এরা ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না। এরা অনেকটা অন্তর্মুখী ধরনের হয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে তারা কিছু জানেন না তা নয় কিন্তু নিজেদের গুণগুলোকে প্রকাশ করতে এরা অনেক বেশি লজ্জা পেয়ে থাকেন। তরুণদের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাটি বেশি হয়ে থাকে। আপনি যদি এমন ধরনের একজন হয়ে থাকেন তাহলে আজই নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। কেননা এই প্রতিযোগিতার যুগে আপনি এভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে লজ্জা পেয়ে থাকেন বা নিজের সিদ্ধান্তটি না নিতে পারেন তাহলে কোনোভাবেই নিজের অবস্থানটিকে দৃঢ় করতে পারবেন না। সফলতা আপনার জীবন থেকে অনেক দূরে চলে যাবে। তাই কিছুটা হলেও নিজেকে প্রকাশ করার চেষ্টা করুন। যা ভাবছেন নির্ভয়ে বলে ফেলুন ধরুন আপনি একটি আড্ডায় বসে আছেন। সেখানে এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে যা আপনার অনেক পছন্দের একটি বিষয় এবং এটি সম্পর্কে আপনি যথেষ্ট জানেন। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন আপনি চাইছেন আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে, দুই তিনটি লাইন বলতে, আপনি ভাবছেন বলবেন কিন্তু আপনি ঠিক বলে উঠতে পারছেন না, আপনার বুক কাঁপছে, ভাবছেন বলবেন কি বলবেন না এবং শেষ পর্যন্ত দেখা গেল আপনি বলতে পারলেনই না। আপনি নিজেকে প্রকাশ করতে লজ্জা পেলেন বলেই আপনি বলতে পারলেন না। এই অপারগতার কারণে আপনার সম্পর্কে কেউ জানলেনও না যে আপনি বিষয়টি অনেক ভালো জানেন। এমন ধরনের লজ্জা কাটিয়ে উঠতে আপনি এর জন্য বাসাতেই কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। বেশি বেশি কথা বলার অভ্যাস করুন। বন্ধুদের আসরে বেশি কথা বলুন। বন্ধুদের মাঝে ভুল বললেও তো তেমন কোনো সমস্যা নয়। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন। নিজেকে যোগ্য করে তুলুন। ‘না’ কখনোই না এমন পরিস্থিতিতে ‘না’ শব্দটি আপনার জীবনের বড় একটি শত্রু হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণে চাইলে আপনার জীবন থেকে ‘না’ শব্দটিকে বাদ দিয়ে দিন। কখনই না বলবেন না। আপনি বলতে পারেন এবং নিজেকে প্রকাশ করতে পারবেন এটাই সত্যি কথা। এর বিপরীতে কোনো কথাই হতে পারে না। চোখ হলো কথার জানালা স্বরূপ চোখ দিয়েই পৃথিবীর সমস্ত ভাষা বোঝা যায় এবং বলা যায়। তবে আপনার এই লজ্জা ছাড়াতে চোখ একটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। আপনাকে এর জন্য চোখের খেলা খেলতে হবে। আপনি সবকিছুই দেখছেন ঠিকই সাথে সাথে দৃষ্টি বিনিময়ও করবেন। মনে রাখবেন আপনার সমস্ত লজ্জা থাকে চোখের মাঝে। তাই লজ্জা নিবারণে চোখের খেলা খেলুন। আপনি চাইলে চোখ দিয়েই বুঝিয়ে দিতে পারেন যে আপনি কোনোভাবেই লজ্জা পাচ্ছেন না। আপনি কথা বলতে পারেন। আপনাকে দিয়েই সম্ভব একটি মজাদার আলোচনার বিষয় তৈরি করতে নিজেকে গুটিয়ে না রেখে সব সময় ভাবুন যে, আপনি কী কী পারেন আর সবাই কী কী পারে না। নিজেকে প্রকাশ করার শক্তি ধারণ করুন। ভাবুন যে একমাত্র আপনিই আছেন যে কি না মজাদার সব বিষয় নিয়ে একটি আলোচনার সভা জমিয়ে রাখতে পারেন। নিজেকে বিশ্বাস করুন যে আপনি পারবেন। লজ্জা ঠিকই আপনার সাথে পেরে উঠবে না। আপনি লজ্জাকে জয় করতে পারবেন। প্রতিবন্ধকতা ঝেড়ে ফেলুন আপনার যত ধরনের ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে আপনার উচিত সবগুলোকে দূর করে ফেলা। আপনি নিজেকে যাচাই করে দেখুন আপনার কী ধরনের সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোকে দূর করার চেষ্টা করুন। যদি মনে করেন যে গুটি কয়েক সমস্যার কারণে আপনি লজ্জাগুলোকে ঠিক ভেঙে বের হতে পারছেন না, তাহলে সেই সমস্যাগুলোকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনি পারবেন লজ্জা কাটিয়ে সবার সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে। যত পারেন পড়ুন কাজের সময় ছাড়া যতটা পারনে বই পড়ুন। একটি বই শেষ হয়ে গেলে পরেরটি শুরু করুন। বিভিন্ন পরামর্শমূলক বই পড়ুন। এতে আপনি যেকোনো পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধান বের করতে পারবেন। একটি বিষয়ের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি একটি বিষয় নিয়ে কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা বললে দেখবেন কয়েকটি দৃষ্টিভঙ্গি বের হয়ে এসেছে। অর্থাত্ একই বিষয়ে নানা চিন্তাধারা রয়েছে। নিজের মধ্যে কোনটি ধারণ করবেন তা পরের বিষয়। কিন্তু শিখতে হলে সব ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি জানার ও নিজে চিন্তা করে বের করার চেষ্টা করুন। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিন সব সমস্যা আপনার একার এবং তা আপনাকে একাই সামলাতে হবে। তাই শেষ সিদ্ধান্তটি আপনারই। মনের কথা শুনুন, সে অনুযায়ীই কাজ করুন। এতে ভালো কিছু হোক বা না হোক সিদ্ধান্ত তো আপনারই থাকল। মডেল :হূদয় ও সিমি