নিজেকে ফিরে পাওয়া

ক্লান্তি আমাদের কাবু করে ফেলে মাঝেমধ্যে। দেহমনজুড়ে নেমে আসে অবসাদ। মনের অজান্তে মুখ থেকে বেরিয়ে আসে, ‘ধুত্, কিচ্ছু ভাল্লাগে না।’ অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা কিংবা টানা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম থেকে জন্ম নেয় এই ক্লান্তি। ভ্রূ কুঁচকে বা মুখ বাঁকা করে বলা এই কথাটি পাশ কাটিয়ে চলতে এবার আপনাদের জন্য রইল কিছু পরামর্শ সকাল দশটায় পরীক্ষা শুরু হবে শশীর। কোনো টার্ম পরীক্ষা নয়, কেবল ক্লাস টেস্ট। কিন্তু এই ক্লাস টেস্ট বা সিটির মার্ক যোগ হবে ফাইনালের সাথে, তাই শশীর চিন্তার অন্ত নেই। শুধু কি তাই, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার শেষ তারিখও আজকে। গত রাতে তিনটা পর্যন্ত জেগে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করেছে সে। এরপর বাকি রাত ঘুম হয়নি বললেই চলে। কোনো রকম বিছানায় গড়াগড়ি আর কি। সকালবেলা বিছানা ছেড়ে উঠেই রেডি হলো কলেজে যাওয়ার জন্য। সবকিছু গোছগাছ করে যখন দেখল রাত জেগে করা অ্যাসাইনমেন্ট ফাইলটি টেবিলে নেই, তখনই মেজাজটা গেল বিগড়ে। আহা রে...!! কী পরিস্থিতিটি চেনা চেনা লাগছে না। ভালো করে দেখুন এমন ঘটনা আপনার দৈনন্দিন জীবন যাপনে কতবার ঘটেছে। একবিংশ শতাব্দীর এই বিশ্বায়নের যুগে, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমরা প্রায়শই তাল হারিয়ে বেতাল হয়ে পড়ি। কখনও মনে হয় সবকিছুর ডেডলাইন মেইনটেন করাই যেন আমাদের একমাত্র ব্রত। কোনোভাবে যদি এই ইঁদুর দৌড়ে কেউ পিছিয়ে পড়ে, তখনই তাকে গ্রাস করে নেয় একরাশ হতাশা আর বিষণ্নতা। কিন্তু তাই বলে কি এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো উপায় নেই। আছে, অবশ্যই আছে। বিষণ্নতা, হতাশা, স্ট্রেস-জাতীয় সমস্যার সমাধানে একটাই মোক্ষম অস্ত্র, তা হচ্ছে, নিজের মাঝে গড়ে তুলতে হবে আত্মবিশ্বাস। কিছু পরামর্শ  নিজের চিন্তা-ভাবনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনুন। যে ঘটনা আপনার মনে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে, সেই ঘটনাকে যুক্তি দিয়ে বুঝার চেষ্টা করুন। যদি আপনার কোনো দোষ থাকে তবে সেটি স্বীকার করে নিন এবং পরবর্তীতে এমনটি করবেন না বলে শপথ করুন।  পজিটিভ থিঙ্কারদের খুঁজে বের করুন। বন্ধুদের মধ্যে যারা পজিটিভ থিঙ্কার তাদের সাথে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। আপনারা প্রত্যেকে প্রত্যেকের কর্মদক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবেন, এটা খুবই স্বাভাবিক। একজনের সংকটময় মুহূর্তে যখন দশজন পজিটিভ মানুষ পাশে এসে দাঁড়াবে তখন সেই একজনের মধ্যে স্বভাবতই পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে। আমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না কিংবা আমি একটি অপদার্থ, এ ধরনের চিন্তাভাবনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আসুন। এসব ভাবনা আপনাকে পজিটিভ হতে বাধা দেবে। বরং, আমিই এই কাজটি পারব, আমার দ্বারা সম্ভব এমন ভাবনা ভাবুন।  প্রচুর বই পড়ুন। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বই আপনাকে নানা রঙের পৃথিবী দেখাবে। সেই নানা রঙের পৃথিবীকে আপনি আপনার মতো করে সাজিয়ে নিতে পারবেন। তা ছাড়া বইয়ের মাধ্যমে আপনার জ্ঞান বাড়বে, ফলে যুক্তিবোধ প্রখর হবে।  লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পজিটিভলি ভাবুন। সপ্তাহের শুরুতে নিজের কাজের একটি চেকলিস্ট তৈরি করে নিন। সেই অনুযায়ী কাজ করুন। দিনের শেষে সারাদিনে যা করলেন সেটা নিয়ে ভাবুন। যেটা পারেননি সেটা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে যেটা পেরেছেন সেটা নিয়ে চিন্তা করুন। আর যেটা পারেননি সেটা কাল কীভাবে পারবেন তা চিন্তা করুন।