অনলাইন বিজ্ঞাপনে এগিয়ে

প্রথমে পড়াশোনার পাঠ শেষ করা, এরপর চাকরির পিছনে দৌড়, এরপর শুরু কর্মজীবন। ধীরে ধীরে টাকা জমানো। নিজের মনের মতো জগতটা সাজিয়ে নেওয়া। এভাবেই আস্তে আস্তে জীবনটাকে গুছিনে নেয় একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু কেউ যদি এই নিয়মের বাইরে গিয়ে খুব অল্প সময়েই হয়ে যান অঢেল অর্থের মালিক! ব্যাপারটা খুব বেশি অবাক করবে না অ্যালেক্স জ্যাকের গল্পটি জানা থাকলে। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম জ্যাক খুব অল্প বয়সেই উপলব্ধি করেন—তিনি কী করতে চান তার জীবনে। সেই সময় তিনি আমেরিকার একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। হাতখরচের টাকা পেলে টিনএজাররা সাধারণত পছন্দের জামা-জুতো কেনে। কেউ আবার টাকা জমিয়ে কেনে শখের বাইসাইকেল। তবে আমেরিকান এই তরুণের মাথায় এসেছিল ঠিক উল্টো ভাবনা। তিনি এই জমানো টাকা দিয়ে ব্যবসায় নামতে চাইলেন। নিজের লালিত চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিলেন। শুরু করলেন কাজ। ব্যস ধীরে ধীরে উন্নতিও শুরু। ব্যবসার পোকাটা তার মাথায় ঢুকেছিল স্টিভ জবসের গল্প পড়ে। বিখ্যাত আইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা জবসের জীবনের শুরুটাও খানিকটা এলোমেলো। পড়ালেখায় মন ছিল না, বাদ পড়ে গিয়েছিলেন কলেজ থেকে। এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র একুশ বছর বয়সে মনের মতো কম্পিউটার বানানোর চিন্তা থেকে অ্যাপলের শুরু। নিজের কম্পিউটার নেড়েচেড়ে সে রকমই কিছু করার ইচ্ছাটা হয়তো উঁকি দিয়েছিল ওয়েনসের মাথায়। ইচ্ছাকে প্রশ্রয় দিয়ে যেটা করে বসলেন তাতে অন্তত একদিক থেকে শুধু জবস কেন, অন্য সবাইকে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে হয়ে গেছে মিলিয়ন পাউন্ডের মালিক। মাত্র সাত বছর বয়সে হাতেখড়ি কম্পিউটার চালানোয়। প্রথমে সারাক্ষণ এ যন্ত্রটি নিয়েই মেতে থাকতেন। ফলে অল্প কয়েক দিনে ওয়েব ডিজাইনের মতো জটিল সব কারবার তার আয়ত্তে চলে আসে। ১০ বছর বয়সে পেয়েছিলেন একটি মেকিন্টোশ কম্পিউটার। তখন এতে ছোটখাটো প্রোগ্রাম বানাতে শুরু করেন তিনি। উইলিয়াম হিলের মতো বড় বড় কোম্পানি এখন তার সেবা গ্রহণ করে। দুটি প্রতিষ্ঠানের হর্তাকর্তা তিনি নিজে। এর সদর দপ্তর তার ঘরে কম্পিউটারের সামনের জায়গাটুকু। এখানে তিনি আবার চাকরিও দিয়েছে আটজনকে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাস করা কর্মীরা সবাই বয়সে তার চেয়ে বড়। তারা ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নানাভাবে সাহায্য করে তাকে। স্কুল শেষে ও সপ্তাহান্তে অবসর পেলে তিনি বসে যান ব্যবসার কাজে। তার ৪৩ বছর বয়সী মাকেও তিনি কাজ দিয়েছেন তার কোম্পানিতে। সামনের বছরে দুটো শাখা খোলার পরিকল্পনা আছে তার। ব্যবসা নিয়ে কেউ কথা বলতে এলে বেশ ভারিক্কিভাব চলে আসে তার মধ্যে।