প্রজন্ম উদ্যোগ
যেভাবে শুরু করতে পারেন
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২০:১২
ফটোগ্রাফি কীভাবে আপনার পেশা হতে পারে? অনেক ধরনের পেশাই হতে পারে একটি ক্যামেরা হাতে নিয়ে। তবে সাথে থাকতে হবে পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং সৃজনশীলতা। তাই নতুন প্রজন্মের যারা ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে নিতে চায় তাহলে তাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রইল।
যারা করতে পারেন
মোটামুটি পড়াশোনা জানেন বা মাধ্যমিক পাস করেছেন এমন যেকোনো ব্যক্তি এই ব্যবসা করতে পারেন। কম্পিউটার এবং আলোকচিত্র সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার জন্য দুই মাসের একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করে ডিজিটাল স্টুডিও দেওয়া যায়।
ছবি তোলা
শুধু যন্ত্রপাতি থাকলেই হবে না, জানতে হবে ছবি কীভাবে তুললে ভালো হয়। সাধারণ ক্যামেরা বা এমএলআর ক্যামেরায় ছবি তোলা এবং ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলার মধ্যে মৌলিক কোনো তফাত্ নেই। ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলার সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল জানা ও ছবির মান এবং ত্রুটিগুলোও বোঝা যায়। মনে রাখতে হবে ক্যামেরা খুব স্পর্শকাতর যন্ত্র এবং একটি ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক ছবি তোলা যায়। ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা ছবিকে কম্পিউটারে সম্পাদনা করার সুযোগ থাকে বলে ফটোশপ বা যেকোনো ফটো সম্পাদনার সফটওয়্যার সম্পর্কে জানা থাকলে ছবিকে আরও শিল্পমানসম্পন্ন ও সুন্দর করা যাবে।
ডিজিটাল ক্যামেরা
স্টুডিওর জন্য ভালো মানের ক্যামেরা ব্যবহার করা উচিত। এই ব্যবসায় যারা নতুন তাদের মানের সাথে সাথে নির্দিষ্ট ক্যামেরার নিয়ম-কানুন ভালো করে জানতে হবে। তাই ক্রয় করার পর ক্যামেরার সাথে প্রাপ্ত ম্যানুয়্যাল বা বিধিমালা মনোযোগ দিয়ে পড়া অবশ্য কর্তব্য। ম্যানুয়্যাল পড়ার সময় নির্দিষ্ট ক্যামেরার ফ্লাশ সম্পর্কিত বিষয়গুলো ভালো করে পড়তে হবে। ডিজিটাল ক্যামেরা যেহেতু আকারের দিক দিয়ে ছোট তাই এই ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার সময় স্ট্যান্ড ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। ডিজিটাল ক্যামেরার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তাত্ক্ষণিক ছবি দেখা যায় বলে ছবি তোলার ক্ষেত্রে অনেক সময় অসাবধানতার কারণে যে ছবি খারাপ আসে তা মুছে আবার নতুন করে নেওয়া যায়। এই ক্যামেরায় যেহেতু নিজেস্ব মেমোরি বা আতিরিক্ত মেমোরি কার্ড ব্যবহার করার সুবিধা রয়েছে তাই প্রচুর পরিমাণে ছবি তোলা যায়।
স্টুডিও বসানো
ডিজিটাল স্টুডিও তৈরি করতে এর সেট নির্মাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এরজন্য অবশ্যই সঠিক স্থান নির্বাচন করতে হবে। প্রথম বিষয়টি হলো আলোকসজ্জা। দুটি ছাতাকৃতির লাইট ও উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে টাংস্টান হ্যালোজেন বাল্ব ব্যবহার করতে পারলে উত্কৃষ্ট মানের ছবি তোলা যাবে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ইলেক্ট্রোনিক ফ্লাশ লাইট ব্যবহার করা যাবে। পেছনের পটভূমিটি হালকা নীল রঙের কাপড় দিয়ে করা যেতে পারে অথবা বড় কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি রাখা যেতে পারে। স্টুডিওর সাথে একটি আয়না ঘর থাকলে ভালো হয়। মূল সেট তৈরি করতে পাঁচ-ছয় ফুট দৈর্ঘ্যের ছোট ঘর হলেও চলবে। ফটো
এডিটিং করা
ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার পর ছবি এডিটিং করতে হবে। এর জন্য বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন সফটওয়্যার যেমন—অ্যাডোবি ফটোশপ, পেইন্ট শপ প্রো, মাইক্রোসফট ডিজিটাল ইমেজ প্রো বা ইউলিড ফটো ইমপ্যাক্টের মতো প্রফেশনাল সফটওয়্যার ব্যবহার করলে উচ্চমানের ছবি পাওয়া যাবে।
প্রশিক্ষণ স্থান
আমাদের দেশে পেশাদারি ফটোগ্রাফি প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় কিছু ইনস্টিটিউট রয়েছে। ফটোগ্রাফির ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ আছে পাঠশালায়। পাঠশালায় ফটোগ্রাফির ওপর আন্তর্জাতিক মানের এক বছরমেয়াদি ডিপ্লোমা এবং দু’বছর ও তিন বছরমেয়াদি বুনিয়াদি উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (বিপিসি) বাংলাদেশের প্রফেশনাল ও নতুন ফটোগ্রাফারদের উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে এই পেশার ব্যাপক প্রসার করা। তারা ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত মাসিক ‘ফটোগ্রাফি’ নামক একটি বুলেটিনও প্রকাশ করেন। এছাড়াও তারা বিভিন্ন সেমিনার ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকেন। তাদের অন্যতম প্রধান একটি কাজ হলো প্রশিক্ষণ দেওয়া।