ভক্তদের তোপের মুখে পড়ছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সুযোগ থাকতেও কেন পাকিস্তানকে ফলো-অন করালেন না তিনি? তাহলে হয়তো হতাশার ড্রয়ের মুখ দেখতে হতো না। দিনশেষে কামিন্স ভুল প্রমাণিত হয়েছেন বটে, তবে ফলো-অন করালেও যে জয় নিশ্চিত ছিল ব্যাপার কিন্তু তেমন নয়। কারণ প্রতিপক্ষ 'আনপ্রেডিক্টেবল' পাকিস্তান। কখন কি করবে এর কোনো নিশ্চিত। এই যেমন হারের মুখে থেকেও করাচি টেস্ট শেষ করল জয়ের সমান ড্র নিয়ে।
সব ছাপিয়ে রোমাঞ্চকর এক দিন উপহার দিল দুই দল। চোখ ফেরানোটাই মুশকিল ছিল। একদিকে বাবর আজমের চোয়ালবদ্ধ লড়াই অন্যদিকে অজি বোলারদের ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা। ৫০৬ রানের লক্ষ্যে শেষ দিনে জিততে হলে ৩১৪ রান করতে হতো স্বাগতিকদের। বাবররা ঝুকি না নিয়ে বরং এগিয়েছেন ড্রয়ের দিকে। শেষ পর্যন্ত সফলও হয়েছেন।
যে কারণে চার রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি মিস করলেও আক্ষেপ নেই বাবরের মুখে। ২ উইকেটে ১৯২ রান নিয়ে আব্দুল্লাহ শফিকের সঙ্গে দিনের শুরুটা করেছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। লাঞ্চের আগে ও পর শফিক ও ফাওয়াদ আলমকে ফেরান কামিন্স।
রিজওয়ানকে নিয়ে এরপর এগোতে থাকেন বাবর। নান্দনিক ব্যাটিংয়ে ৬০৩ মিনিট মুগ্ধ করার পর ধৈর্য্য হারান ন্যাথান লায়নের বলে। শেষ সেশনে আরো দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেন লায়ন। কিন্তু আর বিপদ আসতে দেননি মোহাম্মদ রিজওয়ান। তাতে পাঁচ দিনের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ১০৩০ বল মোকাবিলা করা টেস্ট ড্রয়ের রেকর্ড গড়ল পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ৫৫৬/৯ ডি. ও ৯৭/২ ডি.
পাকিস্তান: ১৪৮ ও ৪৪৩/৭ (বাবর ১৯৬, রিজওয়ান ১০৪, শফিক ৯৬; লায়ন ৪/১১২, কামিন্স ২/৭৫)।
ফল: ড্র
ম্যাচ-সেরা: বাবর আজম।