ভ্যানচালককে ধর্ষণের অভিযোগে রংপুরের পীরগাছা থানার এসআই স্বপন কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদী হয়ে শুক্রবার (১৮ মার্চ) বিকেলে মামলা দায়ের করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পীরগাছা থানার ওসি সরেস চন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ধর্ষণের অভিযোগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই স্বপন কুমারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, স্বপন কুমার এসআই হিসেবে প্রায় ৬ মাস আগে পীরগাছা থানায় যোগদান করেন। সে পীরগাছা বাজারে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করত। গত ১৬ মার্চ সন্ধ্যার দিকে এসআই স্বপন কুমার এক রিকশাচালককে (৫২) বাড়িতে কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নিয়ে গিয়ে নেশা জাতীয় ট্যাবলেট খাইয়ে দেয়। এরপর অচেতন হয়ে পড়লে এসআই স্বপন তাকে ধর্ষণ করেন। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন বলে ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন।
এদিকে ধর্ষণের বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশ কর্মকর্তা স্বপন কুমারের বিচারের দাবিতে ফেঁপে উঠেছে পীরগাছার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানা গেছে, এর আগে এসআই স্বপন কুমার একই কায়দায় আরও দুইজনকে বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন। তবে ভ্যানচালকে ধর্ষণের বিষয়টি জানাজানি হলে পীরগাছা বাজারের ব্যবসায়ীরা এসআই স্বপনের ভাড়া বাসা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে পীরগাছা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এসআই স্বপনকে উদ্ধার করতে তার বাসায় গেলে সেখান থেকে আরও এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে।
পুলিশ এসআই স্বপনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পীরগাছা থানায় নিয়ে আসলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই এসআই স্বপন কুমারকে পীরগাছা থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে ধর্ষণের শিকার ওই ব্যক্তির বড় ভাই জানান, গত ১৬ মার্চ এসআই স্বপন ভুক্তভোগীকে কৌশলে তার বাসায় নিয়ে বিস্কুট, মিষ্টি ও চায়ের সঙ্গে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে খাইয়ে দেয়। এরপর সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে ধর্ষণ করে এসআই স্বপন কুমার। পুরো ঘটনা বর্ণনা করে করে শুক্রবার বিকেলে পীরগাছা থানায় এসআই স্বপন কুমারকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, এসআই স্বপন তিন বছর আগে চাকরিতে যোগদান করেছেন। প্রাথমিকভাবে সে বিকৃত যৌনাচারের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে ধর্ষণ করার সত্যতা মিলেছে।
পীরগাছা থানার ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসআই স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) আশরাফুল আলম পলাশ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসআইকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।