বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে আফিফ হোসেন ধ্রুব টপ অর্ডারে ব্যাট করেন। জাতীয় দল তথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবশ্য প্রিয় পজিশনে খেলার সুযোগ পান না আফিফ। লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে হয় তাকে।
অভিষেক বিবেচনায় আফিফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার চার বছরের। যদিও প্রথম ম্যাচটা খেলার পর এক বছর জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। গতকালসহ বাংলাদেশের হয়ে ৪১টি-২০ ও ১২ ওয়ানডে খেলেছেন আফিফ। দুই ফরম্যাটে তার হাফ সেঞ্চুরি তিনটি। গতকাল ওয়ান্ডারার্সে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান।
আফিফের ক্যারিয়ারে চোখ রাখলে একটা বিষয় বুঝতে বাকি থাকবে না যে, দলের বিপর্যয়ে সব সময় তার সেরাটা বের হয়ে আসে। আফিফ যেন বিপদের বন্ধু। দল যখন বিপদে, ২২ বছর বয়সি এ তরুণ তখন সেরা মুডে। তার তিনটি হাফ সেঞ্চুরি অন্তত এমন উপসংহারে পৌঁছানোর রসদই যোগাচ্ছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ :
আফিফের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচ, মিরপুরে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। ১৪৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৬০ রানে ৬ উইকেট নেই বাংলাদেশের। পরাজয় তখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। স্রোতের বিপরীতে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন আফিফ। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তুলে নিলেন হাফ সেঞ্চুরি। বদলে দিলেন ম্যাচের দৃশ্যপট। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে ৮২ রানের জুটি গড়ে অভাবনীয় জয় এনে দিলেন বাংলাদেশকে। ২৬ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে নিজের জাত চেনালেন আফিফ।
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ :
মাত্রই এক মাস আগের ঘটনা, ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে তরতাজা স্মৃতি। চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২১৬ রানের টার্গেট পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। সাগরিকায় হঠাত্ ঝড়ে খাদের কিনারে স্বাগতিকরা, ৪৫ রানে নেই ৬ উইকেট। পরাজয় তখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র, সবার এমন ভাবনাকে পত্রপাঠ বিদায় করে দিলেন আফিফ। অদম্য প্রতিরোধে মিরাজকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে রেকর্ড ১৭৪ রানের জুটি গড়েন এ তরুণ। ম্যাচ শেষে আফিফ ১১৫ বলে ঝকঝকে ৯৩ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত। আর অবিশ্বাস্য জয় পায় বাংলাদেশ।
মিরপুর, চট্টগ্রামের সঙ্গে ওয়ান্ডারার্সকে এক বিন্দুতে নিয়ে আসা খুব সম্ভব। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩৪ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাকিব-তামিম-মুশফিকরা তখন সাজঘরে। এবারও ত্রাতা হয়ে ধরা দিলেন আফিফ। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৬০, মিরাজের সঙ্গে ৮৬ রানের জুটি গড়ে দলকে এনে দিলেন সম্মানজনক স্কোর। ১০০ রান নিয়ে শঙ্কায় পড়া বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত গড়ল ৯ উইকেটে ১৯৪ রানের পুঁজি। আফিফ ১০৭ বলে দৃষ্টিনন্দন ৭২ রানের ইনিংস খেলে আউট হন। প্রোটিয়া পেসারদের সামলে ৯টি চারে সাজিয়েছেন নিজের ইনিংস। তিনটি ঘটনাই শিরোনামের যথার্থতা তুলে ধরছে। দল যখন বিপদে, আফিফ তখন ভরসার প্রতীক, এটা প্রমাণিত।