এল ক্লাসিকোতে বিধ্বস্ত রিয়াল

উজ্জীবনী বার্তায় জেগে উঠল পুরো বার্সেলোনা শিবির। খেলল অবিশ্বাস্য সুন্দর ফুটবল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ কোনো জবাবই খুঁজে পেল না। ক্লাসিকোয় তাদের উড়িয়ে কাতালান ক্লাবটি যেন বার্তা দিলো, বার্তা পালাবদলের অধ্যায় শেষ, নতুন মোড়কে ফিরছে পুরনো সেই বার্সা।

ম্যাচের আগে যে ফল কেউ ভাবতে পারেনি, সেটাই স্কোরলাইনে ধরা দিল। বিস্ময়ের সব মাত্রা ছাপিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোল উৎসব করল জাভির শিষ্যরা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের গুঁড়িয়ে দিলো ৪-০ গোলে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা লা লিগা সবখানেই দারুণ ছন্দে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোর দ্বৈরথে নামার আগেও পরিসংখ্যান কিংবা পারফরম্যান্স সবদিক থেকেই এগিয়ে কার্লো আনচেলত্তির দল। কিন্তু দলের প্রাণভোমরা করিম বেনজেমার অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। সুপার সানডের হাইভোল্টেজ এল ক্লাসিকোর দ্বৈরথে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছে জাভি হার্নান্দেজের নেতৃত্বে পুনর্জন্ম হওয়া বার্সেলোনা।

২৯ তম মিনিটে দলের হয়ে লিড এনে দেন অবেমেয়াং। অধিনায়ক নাচোর বাড়ানো শট দারুণ হেডে জালে পাঠান এ স্ট্রাইকার। মিনিট পাঁচেক পরই আবারও গোল পেতে পারতেন অবেমেয়াং। কিন্তু এবার তার বল আটকে দেন কর্তোয়া। 

এরপর দেম্বেলের কর্নার থেকে গোল করেন রোনাল্ড আরাউজো। ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই আগ্রাসনে খেলা শুরু করে বার্সা। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক কর্তোয়াকে একা পেয়েও অবিশ্বাস্য এক সুযোগ মিস করেন তোরেস। ৪৬ মিনিটের মাথায় সুবর্ণ সুযোগ হারানোর পরপরই শাপমোচন তোরেসের। ম্যাচের ৪৭তম মিনিটেই অবেমেয়াংয়ের পাস থেকে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি তিনি।

ম্যাচের ৫১ তম মিনিটে বার্সেলোনার গোল এক হালি পূর্ণ হয়। পিকের কাছ থেকে বল পেয়েছিলেন তোরেস। তার পাস থেকে বল জালে পাঠান অবেমেয়াং।

পুরো ম্যাচে অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেছে বার্সেলোনা। প্রায় ৬০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশ্যে ১৮টি শট নেয় তারা, যার ১০টি লক্ষ্যে। অবামেয়াং, ফেররান নিশ্চিত কয়েকটি সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান হতে পারতো আরও বড়।