বগুড়ার ধুনট উপজেলার শহরাবাড়ী স্পার এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর মাঝখান থেকে এভাবে বালু উত্তোলনে যমুনার স্পার, বাঁধ, তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, হাজার হাজার একর ফসলি জমি হুমকিতে পড়েছে।
অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সারিয়াকান্দি পৌরসভার উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে এক আলোচনাসভায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি ওঠে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের ভূতবাড়ী গ্রাম থেকে শহরাবাড়ী গ্রাম পর্যন্ত তিন কিলোমিটার যমুনা নদী ও বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙন রোধে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ করে। এ কারণে চার বছর ধরে যমুনা নদী ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বড় ধরনের কোনো ভাঙন দেখা যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সারিয়াকান্দি পৌর আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা ও তার অনুসারীরা ধুনটের শহরাবাড়ী গ্রামের কাছ থেকে যমুনা নদীতে খননযন্ত্র ও বাল্কহেড ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যমুনা নদী থেকে দুই সপ্তাহ ধরে ১৫ থেকে ২০টি খননযন্ত্র দিয়ে ৫০ থেকে ৮০ ফুট গভীর থেকে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড দিয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারী গ্রামে নেওয়া হচ্ছে। ড্রেজারের পাইপে বালুমিশ্রিত পানিতে ফসলি জমি বিনষ্ট হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতি ট্রাক বালু ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। স্হানীয়রা জানান, রাত-দিন নদীর মাঝখান থেকে খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে যমুনার গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। জেগে ওঠা চরের হাজার হাজার একর ফসলি জমি ভাঙনের আশঙ্কায় পড়েছে। বাল্কহেড ও ড্রেজারের মালিক সুমন আহম্মেদ বলেন, গত এক সপ্তাহে ১৩ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল করিম মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক দুলু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা বালু উত্তোলন করে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে ফেলে নিজেরা লাভবান হচ্ছেন। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অজ্ঞাত কারণে স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্তর (ইউএনও) সঙ্গে শনিবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি নেই। এর আগে কয়েক বার অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে। তাদের বালু উত্তোলনে নিষেধ করা হয়েছে। যতটুক জানা গেছে, শুক্রবার থেকে তারা বালু উত্তোলন করছেন না।