বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিয়া জাহান বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের বাঙালিদের জন্য চির আবেগময় একটি দিন। এদিনটি আমাদের বারংবার মনে করিয়ে দেয় আমাদের মুক্তিসেনাদের আত্মত্যাগের কথা। জানান দিয়ে দেয় আমাদের স্কন্ধে প্রতিনিয়ত রয়েছে এ স্বাধীনতা রক্ষা করার ভার। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েইতো আমাদের এ অর্জন৷ তবুও আমাদের সকলের মনে একটা প্রশ্ন থেকেই যায় আমরা জাতি হিসেবে কতটা স্বাধীন? পারছি কি আমাদের এ স্বাধীনতা রক্ষা করতে? আশা করি একদিন আমাদের তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে এ প্রশ্নের অবসান ঘটবে। সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া জামান বলেন, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পার করেছি, পার করেছি ৫০ বছরের ও বেশি সময়। আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে কী পেয়েছে এই দেশ, দেশের জনগণ? স্বাধীনতার কথা ভাবলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে নিরন্ন ফাতেমারা দুই কেজি চালের জন্য টিসিবির ট্রাকের পেছনে ঝুলছে! ক্ষুধার জ্বালায় সিরাজগঞ্জের আফরোজারা আত্মহত্যা করছে! অভাবের তাড়নায় পিরোজপুরের পরিমল বেপারীরা প্রিয় সন্তানকে বিক্রি করে দিচ্ছে! দিনাজপুরের হিলির সোনালী বেগমরা ক্ষুধার্ত শিশু সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে মাথার চুল বিক্রি করছে! এই হচ্ছে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের চিত্র। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত, অপরাজনীতি ও দূর্নীতি রোধ করে সোনার বাংলা তৈরি করাই হোক এই স্বাধীনতা দিবসের মূল অঙ্গীকার, এটাই প্রত্যাশা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এম. রনি ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতার ৫১ বছরে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি সত্যিই প্রশংসনীয়। বিচারব্যবস্থায় সফলতার আরেক নাম ‘লিগ্যাল এইড’ সেবা। গত এক দশকে সারা দেশে মামলা নিষ্পত্তির পরিমাণ বাড়াতে বিচারক নিয়োগ, আইন প্রণয়ন, জনবল কাঠামো বৃদ্ধি, আদালত ভবন নির্মাণসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে এই সরকার, যা সারা দেশের মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী হাবিবুর রনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে বাংলাদেশকে এখন হাতছানি দিচ্ছে বিশ্বের ২৫তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আর সেটাও খুব বেশি দূরে নয়, সবকিছু ঠিক থাকলে তা ২০৩৫ সালের মধ্যেই অর্জন হবে। স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে অর্জিত সাহস আর উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করে সমালোচনাকারীদের মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছে বাংলাদেশ। বেকারত্ব, দারিদ্র্য শিক্ষার জরাজীর্ণতা থেকে বেরিয়ে এক নতুন বাংলাদেশের হাতছানি দিচ্ছে বিশ্ব দরবারে আর এইসব কিছুর স্বপ্ন বিনির্মাণে কাজ করছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সাহস, উদ্যম আর স্বাধীনচেতার মনোভাব। স্বাধীনতার এই মাসে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ জায়গা থেকে সততার সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করবে।