নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য সমন্বয়ে ১৬ জেলার ঠিকাদারদের ৮ দাবি

নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ১৬ জেলার ঠিকাদারদের নিয়ে মহাসমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ঠিকাদার ঐক্য পরিষদ।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সকালে বগুড়ার মাটিডালী মোড়ে ক্যাফে সোয়াদে ঠিকাদারদের মহাসমাবেশ নির্মাণ সামগ্রীর স্বাভাবিক মূল্য ফেরাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি ৬টি দাবি রেখেছে ১৬ জেলার ঠিকাদাররা। এসময় সভায় অংশগ্রহণ করে- রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার ঠিকাদাররা।

এমন পরিস্থিতিতে ঠিকাদারদের পক্ষে কিছু সুপারিশ জানানো হয়। ৬ সুপারিশগুলো হলো-

১. বর্তমান চলমান কাজ গুলো যেহেতু Fixed Rate Contract এ সম্পাদিত হচ্ছে; তাই বিশেষ ব্যবস্থায় প্রজ্ঞাপন জারী করে PPR এ সন্নিবেশিত ফর্মুলা অনুযায়ী Price Adjustment ধারা সকল চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হউক।

২. এখন থেকে প্রতিটি দরপত্রে কাজ বাস্তবায়নের সময় বিবেচনা ব্যতিরেকে পিপিআর অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় মূল্য সমন্বয় ধারা (Price Adjustment Clause) নিবেশিত করে কার্যকর করণ সহ এ ব্যাপারে বিভিন্ন নির্বাহী প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারী, অজ্ঞতা প্রসূত এবং পিপিআর ২০০৮ (সংশোধিত ২০১০) এর সহিত সাংঘর্ষিক আরোপিত শর্তাবলী দরপত্রে প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হউক।

৩. বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী PWD সহ সকল দপ্তরের Rate Schedule হালনাগাদ করা হউক। 

৪. প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত পানি ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত খরচ সকল Rate Schedule এ সন্নিবেশিত করা হউক। 

৫. বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ববাজার পরিস্থিতিতে, বৈশ্বিক অর্থ মন্দার প্রভাবে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির বিপরীতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি নির্মাণ কাজের প্রাক্কালে Price Contingency এর আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হউক।

৬. সরকারের পরিপত্র ও বিধি নিষেধ আরোপের কারণে নির্মাণ সামগ্রীর দরের পরিবর্তনের প্রভাব এবং নির্মাণ ব্যয় সমন্বয় সংক্রান্ত পিপিআর এ বর্ণিত ধারা “Adjustment for changes in legislation” কার্যকরী

৭. আমদানি নির্ভর নির্মাণ সামগ্রীর কাঁচা মালের আমদানি শুল্ক সাময়িক ভাবে হলেও স্থগিত করা হউক।

৮. চলমান নির্মাণ চুক্তি গুলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নয়ন নির্বাহী প্রতিষ্ঠান যেমন- গণপূর্ত, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য একটি মূল্য সংশোধন সেল তৈরি পূর্বক চুক্তিবদ্ধ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও নীতিমালা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করা হউক।

বাংলাদেশ ঠিকাদার সমন্বয় পরিষদ বগুড়া জেলার আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ইমদাদুল হক ইমদাদ, আনোয়ারুল ইসলাম, কামরুল আলম, গাইবান্ধা জেলা এলজিইডি ঠিকাদার সমিতির সভাপতি শাহজাহান খান লাবু, জয়পুরহাট জেলা ঠিকাদার সমিতির আহ্বায়ক কালিচরণ দাস, ঠাকুরগাঁও ঠিকাদার সমিতির মাসুদ রানা, কুড়িগ্রাম জেলার ঠিকাদার প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান সাজু, নওগাঁ ঠিকাদার সমিতির হাসানুল আল মামুন, রাজশাহী ঠিকাদার সমিতির হারুনুর রশীদ, বগুড়া ঠিকাদার সমিতির কামরুল আলমসহ ১৬ জেলার ঠিকাদার প্রতিনিধিবৃন্দ। 

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ ঠিকাদার ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ম. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উন্নয়ন বান্ধব বর্তমান সরকারের দূরদর্শিতা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ সমূহের কারণে বিশ্ব দরবারে আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের কাতারে আসীন। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক ও সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে আমাদের প্রাণপ্রিয় জন্মভূমিকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামোসহ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়ক হিসাবে ঠিকাদাররা সাফল্যের সাথে বাস্তবায়ন করে আসছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন সময়মত বাস্তবায়ন না হলে দেশের উন্নয়ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। চলমান ভয়ানক সংক্রামক কোভিড-১৯ এর কারণে আমরা ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন। এর মধ্যে অত্যন্ত পরিতাপ ও দুঃখের বিষয় এই যে, বিগত ১ বছরের অধিক সময় ধরে নির্মাণ প্রকল্পের মূল উপকরণ সমূহ যেমন- লৌহ এবং লৌহ জাতীয় দ্রব্য, সিমেন্ট, পাথর, ইট, বিটুমিন, ডিজেল, এ্যালুমিনিয়াম, বিল্ডিং ফিনিশিং আইটেম ইত্যাদি দ্রব্যাদি সহ এ খাতের প্রায় সকল প্রকার নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য অস্বাভাবিক ও লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়ে অসহনীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।