রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া জাকের সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী রাকিব হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলার আসামিদের হুমকিতে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া সাত আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও মার্কেটে ব্যবসায়ীদের হুমকি দিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, রাকিবকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যাচেষ্টার পর এবার অন্য কোনো ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের টার্গেট হতে পারেন।
তবে বংশাল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, হুমকি বা ভয়ভীতির ব্যাপারে কোনো ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ করেননি। উলটো ব্যবসায়ীরা পুলিশকে জানিয়েছে যে এখন আর কোনো সমস্যা নেই। আমরা খোঁজ নিয়ে যতটুকু জেনেছি যে জামিনে আসামিরা মুক্তি পাওয়ার পর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়েছে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি জাকের সুপার মার্কেটের ছাদ থেকে রাকিব শেখ নামে এক ব্যবসায়ীকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় ফিরোজ বাহিনী। ছাদ থেকে পড়ে ঐ ব্যবসায়ীর কোমর ও চোয়াল ভেঙে যায়। আহত ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এ ঘটনায় রাকিব শেখের ভাই বাদী হয়ে বংশাল থানায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর র্যাব অভিযান চালিয়ে ফিরোজ বাহিনীর প্রধান ফিরোজ আহম্মেদ (৫০), হুমায়ুন কবির বিটু, নাসির উদ্দিন, মাহমুদুল হাসান রাসেল, হাজী মো. ফরিদ ভূঁইয়া ওরফে ছোট ফরিদ ও আলম শিকদারকে গ্রেফতার করে।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে বা বাধা দিলে ফিরোজ আহমেদের সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবসায়ীদের মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করত।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জাকের সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির অফিসের পিয়ন ফিরোজ সভাপতির অনুপস্হিতিতে ঐ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন। মার্কেটের বিভিন্ন দোকানের পজিশন গোপনে নিজ উদ্যোগে বিক্রি করেন ফিরোজ আহমেদ। একেকটির পজিশন ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকায় তিনি বিক্রি করেছেন। এসব ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে প্রতিবাদ করেন ব্যবসায়ীরা। এর জের ধরে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ঐ মার্কেটের ছাদে ধরে নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। এসব ঘটনায় আদালতসহ বংশাল, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর থানায় ফিরোজের বিরুদ্ধে অন্তত ৭টি মামলা ভুক্তভোগীরা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
অবিলম্বে হুমকিদাতা সন্ত্রাসীদের জামিন বাতিল করে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের পরিবার ও ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জাকের সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জানান, সন্ত্রাসী ফিরোজ বাহিনীর কাছে চাঁদা দিয়ে এই মার্কেটে ব্যবসা করতে হয়। চাঁদা না দিলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।