জবিতে পর্যাপ্তসংখ্যক কর্মকর্তা না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কার্যক্রম

দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) রয়েছে ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউট। সময়ের পালাবদলে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভাগের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি পর্যাপ্ত পরিমাণ লোকবল। ফলে বিভাগীয় দাপ্তরিক কার্যক্রমগুলোতে এখনো জটিলতা ও ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। যার প্রভাব পড়ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরেই। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন পেলেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা নিয়োগ করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সার্বিক দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সেকশন অফিসারের হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগেই নেই নূন্যতম একজন সেকশন অফিসার। ফলে অনেক বিভাগে অফিস সহকারীদের দিয়েই করানো হচ্ছে নির্ধারিত দাপ্তরিক কাজ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইন্সটিটিউটের মধ্যে ২০টি বিভাগ ও ১টি ইনস্টিটিউটে একজন সেকশন অফিসারও নেই। বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত পরিসংখ্যান বিভাগ, লাইফ এড আর্থ সায়েন্স অনুষদভুক্ত প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ এবং ফার্মেসী বিভাগে সেকশন অফিসার নেই। কলা অনুষদভুক্ত ৯টি বিভাগের ৭টিতেই নেই সেকশন অফিসার। এই অনুষদে বাংলা বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, ইতিহাস বিভাগ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দর্শন বিভাগ ও নাট্যকলা বিভাগে দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য নিয়োগকৃত সেকশন অফিসার না থাকায় কার্যক্রম চলছে অফিস সহকারীদের দিয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৮টি বিভাগ রয়েছে। একই অবস্থা সেখানেও। এই অনুষদে অর্থনীতি বিভাগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, লোক প্রশাসন বিভাগ, সমাজকর্ম বিভাগ এবং ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগে সেকশন অফিসার না থাকায় সমস্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ফিন্যান্স বিভাগ ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ এবং আইন অনুষদভুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগেও একই চিত্র।

এদিকে দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা না থাকায় এসব বিভাগগুলোতে দাপ্তরিক কার্যক্রমগুলোতে এক ধরনের স্থবিরতা চলছে। ক্ষেত্রবিশেষে অফিস সহকারীরাই সম্পন্ন করছে কার্যক্রম। এর ফলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সহ সার্বিক দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে অত্যাধিক সময় ব্যয় হবার পাশাপাশি জটিলতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট প্রস্তুত করার ক্ষেত্রেও বাড়তি সময় লাগছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই বড়। এখানে বিভাগীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেকশন অফিসার নিয়োগ দরকার। এছাড়া জটিলতা ও স্থবিরতা দিন দিন আরও বাড়বে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষের নিকট সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে প্রয়োজনীয় সেকশন অফিসার নিয়োগের দাবি জানিয়েছি। তবে এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তারপরও আমরা আমাদের জায়গা থেকে বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে লোকবলের জন্য চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। চাহিদাপত্র অনুমোদন হলে আমরা প্রয়োজনীয় সংখ্যক অফিসার নিয়োগ দিতে পারবো।