সাম্প্রদায়িক ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ১৮ নাগরিকের বিবৃতি

সম্পতি দেশে সংঘটিত বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ১৮ নাগরিক। বুধবার (৬ এপ্রিল) এ বিবৃতি দেন তারা। ওই বিবৃতিতে তারা বলেন, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত করেছে, যা জাতির জন্য বহন করছে অশনি সংকেত।

ওই বিবৃতিদানকারীরা হলেন-আব্দুল গাফফার চৌধুরী, সৈয়দ হাসান ইমাম, অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, সারোওয়ার আলী, আবেদ খান, সেলিনা হোসেন, লায়লা হাসান, আবদুস সেলিম, মফিদুল হক, শফি আহমেদ, শাহরিয়ার কবীর, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, মুনতাসীর মামুন, সারা যাকের, শিমুল ইউসুফ ও হারুণ হাবীব।

ওই বিবৃতি বলা হয়, বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার ও জামিন না দেওয়া, কলেজের শিক্ষক লতা সমাদ্দারকে টিপ পরার কারণে পুলিশ সদস্য কর্তৃক লাঞ্ছনার ঘটনা, মুজিব শতবর্ষে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা সমর্থন করে এবং ভাস্কর্য ইসলাম বিরোধী কাজ বলে চিহ্নিত করে পুলিশ সদস্যের ফেসবুক ও সরাসরি মাইকে ঘৃণ্য বক্তব্য, ইতিপূর্বে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে অন্য ধর্মালম্বী মানুষকে ঘৃণা করার শিক্ষা সম্বলিত রচনার অন্তর্ভুক্তি, দু’বছর আগে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা একজন সচিবের ‘টাকনু’র ওপরে কাপড় পরার বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি এবং বাংলা নববর্ষের প্রভাতে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বিদাত বলে ঘোষণা আমাদের মনে এই ছায়াপাত করে যে রাষ্ট্রকাঠামোর অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে। 

বিগত কয়েক বছর যাবত সমাজে বিচ্ছিন্নভাবে ধর্মান্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী সহিংস যে ঘটনা ঘটিয়েছে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইন শৃঙ্খলা-রক্ষা বাহিনীর কতিপয় সদস্য যখন সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে শিক্ষক, শিল্পী ও সাধারণ মানুষকে নানাভাবে লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত করছে তখন জনগণের মনে হওয়াটা স্বাভাবিক যে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধের মূল চারনীতি ও মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করতে সচেষ্ট নয়। 

হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিকে বিধর্মীদের সংস্কৃতি বলে মিথ্যাচার করে সরকারের ও রাষ্ট্রের মধ্যে অবস্থান নেওয়া স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার-আলবদরের উত্তরসূরিরা আজ রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে ফেলার প্রয়াস নিয়েছে বলেও ওই বিবৃতিতে বলা হয়। 

বিবৃতি বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্যদিয়ে যে প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উদ্ভব এবং সেই ধারা অনুগত শিক্ষা ও সংস্কৃতির উত্থান ঘটে, যা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে একটি পশ্চৎপদ রাষ্ট্রে পরিণত করে।

একইসঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের যেসব ব্যক্তি সাম্প্রদায়িক ঘটনায় সহযোগিতা ও ইন্ধন যোগাচ্ছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।