হাওরে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও জোয়ারের পানিতে কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন হাওরে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফসলরক্ষায় অবিলম্বে বাঁধ সংস্কারের দাবি উঠেছে। এদিকে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে বাঁধ ভেঙে ফসলডুবির প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ ও জেলা বিএনপি।

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সকালে উপজেলার সিংপুরচর, পাগলারচর, পরানেরচর, রবিরচর, বান্ডারচর, শোলবাড়িয়ারচর, নয়নবালিরচর, সোয়ায়জনিরচর ও করগাঁওচর হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, ধনু ও ঘোড়াউত্রা নদী তীরবর্তী চরের অনেক বোরো জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। উজানের ঢলে নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। নৌকা নিয়ে পানির নিচ থেকে আধাপাকা ধান কাটছেন স্থানীয়রা। ৮০ ভাগ ধান পাকলেই দ্রুত কেটে ফেলতে পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি অফিস। ঝুঁকিপূর্ণ ফসলরক্ষা বাঁধের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কবস্থায় রয়েছে প্রশাসন।

মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, মদনে হাওরে ও নদী-খালে পানি বাড়ছে। এতে হাওরের অপেক্ষোকৃত নিচু জমির শতাধিক একর কাঁচা-আধা পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কৃষকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। কৃষক ও প্রশাসন দিনরাত মাটি কেটে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে। তবে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে মূল হাওরগুলোতে এখনো পানি উঠেনি। শুধু মাত্র নদী ও খালের মধ্যে অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে পানি ঢুকেছে। ফতেপুর ইউনিয়নের বিয়াশি গ্রামের কৃষক মাসুম মিয়া এবার ঋণ করে ৮ একর জমি বর্গা নিয়েছেন। তিনি বললেন, ‘প্রায় সব জমি চোখের সামনেই ডুবে গেছে। কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব তা ভেবে পাচ্ছি না।’

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ও খালিয়াজুরী সংবাদদাতা জানান, জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায় ধনু নদীর পানি গতকাল বুধবার সকাল থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে পানির চাপ পুরোপুরি না কমায় সদর সংলগ্ন কীর্তনখোলা ফসল রাক্ষা বাঁধ এখনো ভাঙন ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা। কীর্তনখোলা বাঁধের দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিলে গত বুধবার দিনরাত প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় লোকজন মেরামত করেন। ইতিমধ্যে বেড়িবাঁধ এলাকার বাইরে এবং ধনু নদীর তীরবর্তী এলাকায় রোপণ করা আধাপাকা বোরো জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেই আধাপাকা ধানই কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের পাহাড়ি ঢলে খালিয়াজুরী, মদন ও মোহনগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের হাওরগুলোর অন্তত ৫০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল বুধবার দুপুরে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ শহরের কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এতে সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়সহ অন্যরা বলেন, ‘পিআইসি ও কিছু সরকারি অসাধু কর্মকর্তার কারণে হাওরের বাঁধগুলো ভেঙে যাচ্ছে। আজকে হাওরের ফসল তলিয়ে যাচ্ছে, এখন সারা বছর কৃষকরা কীভাবে বাঁচবে।

দিরাইয়ে বাঁধ ভেঙে হাওরে ঢুকছে পানি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার টাংনি হাওরের বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকছে। এতে হাওরের ৫০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। গতকাল বিকালে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারলিয়া সাতপাকিয়া নদী তীরবর্তী উপ-প্রকল্পের ৩১ নম্বর পিআইসির বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়।