উপমহাদেশের ক্রিকেটাররা তাদের খেলোয়াড়ি জীবনে দুই ধরনের অভিজ্ঞতা পেয়ে থাকেন। জিতলে প্রশংসায় ভাসেন, আর হারলে সমালোচনাও শুনতে হয়। সেটা ভালোই জানা আছে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের। তাইতো তিনি চান না, তার ছেলে ক্রিকেটার হোক।
২০১৭ সালে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জয় করে পাকিস্তান। তখন নিজ দেশে তাকে বিরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। চারদিকে সরফরাজের জয়জয়কার। ২০০৯ সালের পর আইসিসি বড় কোনো ইভেন্টের শিরোপ যে জিতেছে পাকিস্তান। কিন্তু এর দুই বছর পরই দাবার গুটি উল্টে যায়। তীব্র সমালোচনার মুখে নেতৃত্বও হারান অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।
২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ জিতে গ্রুপ পর্বে পঞ্চম হয়েছিল পাকিস্তান। অল্পের জন্য সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় তারা। তবু, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তৎকালীন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। আর এখন তো দলেও জায়গা হারিয়েছেন।
তাইতো সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সরফরাজ জানিয়েছেন, ক্রিকেট খেলতে তার ছেলে খুব পছন্দ করে। কিন্তু তিনি তাকে ক্রিকেটার বানাতে চান না। পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘ক্রিকেট খেলতে আবদুল্লাহ (সন্তান) পছন্দ করে। কিন্তু আমি চাই না সে পেশা হিসেবে ক্রিকেট নিক। সত্যি বলতে, ক্রিকেটার হিসেবে আমি অনেক জায়গায় ভুগেছি। আমি চাই না আবদুল্লাহও তার জীবনে এগুলোর মুখোমুখি হোক।’
আবদুল্লাহ এখনো ছোট হলেও তার ব্যাট ধরা ও শট খেলার যে ধরন, সেটা ভালোই সুনাম কুড়িয়েছে। তার খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটার মঈন খান ও শোয়েব মালিকের স্ত্রী ভারতের টেনিস খেলোয়াড় সানিয়া মির্জা।
সে প্রসঙ্গে সরফরাজ বলেন, ‘মঈন ভাই আবদুল্লাহর স্কিলের প্রশংসা করেছেন, সানিয়া মির্জা আমাকে বলেছে, তার (আবদুল্লাহ) ক্রিকেটার হওয়ার প্রতিভা আছে। সেটাই যদি হয়, আমি চাই আবদুল্লাহ কঠিন পরিশ্রম করে নিজের লক্ষ্য অর্জন করুক। আমার ছেলে বলে কেউ যেন তার পথটা সহজ ও মসৃণ করে না দেয়।’