একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় ছয়টি আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে কৌশল নিয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার পাশাপাশি তারা দলীয় একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। ফলে জামায়াতের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে সঙ্গে দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরও আশঙ্কা রয়েছে। অপরদিকে, একটি আসনে স্বতন্ত্রের মোড়কে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া মহাজোটে থাকলেও ৩টি আসনে জাতীয় পার্টির পৃথক প্রার্থী রয়েছে। ফলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে তাদের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ খুলনার ছয়টি আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলে ৫১জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাসকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও স্বতন্ত্রের মোড়কে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডল। এছাড়া এ আসনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির (জাপা) সুনীল শুভ রায়ও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। একইভাবে খুলনা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আখতারুজ্জামান বাবুকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু ও মোস্তফা কামাল এবং খুলনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আব্দুস সালাম মুর্শেদীকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও জাতীয় পার্টির হাদিউজ্জামান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে তাদের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উল্লিখিত ৬টি আসনে একক প্রার্থীতার বিষয়টি ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে, খুলনা-১, ৪ ৬ নম্বর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কি ধরনের সমঝোতা হবে- নাকি তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকবে সেটি দেখার জন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
খুলনায় ছয়টি আসনে বিএনপি-জামায়াতের মোট ১১ জন দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরোয়ার এবং খুলনা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদকেও দেওয়া হয়েছে ধানের শীষ প্রতীক। এর বাইরে শুধুমাত্র বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন ৯জন। এরা হলেন খুলনা-১ আসনে আমীর এজাজ খান, খুলনা-২ আসনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনে রকিবুল ইসলাম বকুল ও এসএস আরিফুর রহমান মিঠু, খুলনা-৪ আসনে আজিজুল বারী হেলাল ও শরীফ শাহ কামাল তাজ, খুলনা-৫ আসনে ডা. গাজী আব্দুল হক ও ড. মামুন রহমান এবং খুলনা-৬ আসনে এসএম শফিকুল আলম মনা।
এ বিষয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, জামায়াত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাদেরও দলীয় প্রার্থী হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। আর বিএনপির দলীয় একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার নাগাদ সকল আসনেই একক প্রার্থীতা নিশ্চিত করা হবে। সে ক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব বা দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ থাকবে না। সবাই দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে।