রসুনের দাম নিয়ে শঙ্কায় নাটোরে চাষিরা

নাটোরে রসুনের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে চলনবিলের চাষিরা। দেশের উৎপাদিত এক তৃতীয়াংশ রসুন নাটোর জেলায় উৎপাদন হয়। জেলায় রসুন চাষে আবহাওয়া বেশ উপযোগী হওয়ায় এ জেলায় বিনা চাষে রসুন চাষ হয়ে থাকে। নাটোর জেলা থেকে প্রতি বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার রসুন বেচাকেনা হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে চাষিরা। নাটোরে উৎপাদিত রসুন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা চলে যায়। 

জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চৈত্রের তাপদাহ উপেক্ষা করে ক্ষেত থেকে রসুন উত্তোলন করছে চাষিরা। পরিপাটি শেষে বস্তাবন্দী করে বিভিন্ন হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছেন চাষিরা। হাটে প্রকারভেদে সর্বনিম্ন ৬০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৩০০ টাকা দরে প্রতি মণ রসুন বিক্রি হতে দেখা গেছে। হাটে-বাজারে রসুনের চাহিদা থাকলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চাষিরা। ভালো দাম না থাকায় কৃষকের চোখে মুখে হতাশার ছাপ দেখা যাচ্ছে। 

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি ২০২১-২২ মৌসুমে নাটোর সদর উপজেলায় ২৯৪০ হেক্টর, গুরুদাসপুরে ৫৫০০ হেক্টর, বড়াইগ্রামে ৯৪৫৫ হেক্টর, সিংড়ায় ১২৮০ হেক্টর, নলডাঙ্গায় ৫১০ হেক্টর, লালপুরে ১২৩৫ হেক্টর এবং বাগাতিপাড়ায় ১০৫০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ করা হয়েছে। যা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার ৫১৭ মেট্রিকটন।

নাজিরপুর এলাকার রসুন চাষি খোরশেদ আলী বলেন, গত বছর তিন বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেন তিনি। ফলন বেশ ভালোই হয়েছিল কিন্তু রসুন বিক্রি করে খরচের টাকাই উঠছে না। এ বছর রসুনের দাম উঠলে লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিবেন বলে জানান তিনি।

চলনবিলের খুবজীপুর শ্রীপুর গ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম জানান, ৪ বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছেন তিনি। গত বছরের চেয়ে এবার উৎপাদন খরচ বেশি। এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে রসুন আবাদে খরচ হয়েছে ৩০-৩৫ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ২০-২৫ মণ রসুন উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদন ভালো হলেও খরচ অনুযায়ী বাজারে দাম নেই। এরকম দাম থাকলে সকল চাষিদের লোকসান গুনতে হবে বলে তিনি জানান।

গুরুদাসপুরের রসুন চাষি আব্দুল বাতেন ভূইঁয়া বলেন, এ বছর চার বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি। হাটে রসুনের দাম নেই, ভালো দাম পেলে প্রায় দুই লাখ টাকার রসুন বিক্রি করতে পারবেন তিনি। 

মশিন্দার শিকারপুর গ্রামের মমিন সরদার জানান, গত বছর রসুনের ভালো দাম না থাকায় অনেক লোকসানে পড়তে হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভালো দামের আশায় ২ বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করেছেন। এবারেও ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহমুদুল ফারুক বলেন, দেশের এক তৃতীয়াংশ রসুন নাটোর জেলায় উৎপাদিত হয়। জেলায় চলতি মৌসুমে ২১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ করা হয়েছে। এবার রসুনের বেশ ভালো ফলন হয়েছে। এ বছর জেলায় ইটালি ও বারি-১ জাতের রসুন চাষ করা হয়েছে।