অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার উপাধিতে ভূষিত সালিমুল হককে সংবর্ধনা

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইইউবি’র ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইইউবি’র ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়

ব্রিটিশ সরকারের সম্মানজনক অফিসার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) উপাধিতে ভূষিত হওয়ায় বিশিষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সালিমুল হককে সংবর্ধনা দিয়েছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)।

রবিবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইইউবি’র ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু প্রতিকূলতা মোকাবিলায় বাংলাদেশ এই শতাব্দীর একমাত্র দেশ, যেটি ১০০ বছরের ডেল্টা প্ল্যান তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় আমরা অধ্যাপক সালিমুল হকের সঙ্গে কাজ করেছি। সেখানে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।’

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, ‘অর্ডার ও অনার্স ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃতি ব্যক্তিদের অসাধারণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা দিয়ে থাকে যুক্তরাজ্য। অধ্যাপক সালিমুল হককে ওবিই সম্মাননা দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সেই কাজটিই করেছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘জলবায়ু নিয়ে যেকোনও প্রশ্নে ন্যূনতম পরিবর্তন আনাটাও খুব কঠিন কাজ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলি যে পরিমাণ ক্ষতি ও ধ্বংসের মুখোমুখি হচ্ছে, সে প্রশ্নে দর কষাকষিতে অধ্যাপক সালিমুল হকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক এবং বর্তমানে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রফেসর হক সবসময় সিভিএফকে সহযোগিতা করেছেন এবং ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিভিএফ’র সব প্রেসিডেন্সিকে সমর্থন যুগিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে আইইউবি’র উপাচার্য তানভীর হাসান বলেন, ‘আইইউবি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় ও পরিবেশ বিষয়ে সচেতন এবং প্রযুক্তিমনা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে উন্নতির জন্য এসব দক্ষতা অপরিহার্য। আইইউবি’র ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেই মিশনের একটি বিশাল অংশ বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করছে। অধ্যাপক সালিমুল হকের সহযোগিতা এবং গবেষণা আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শেখার এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।’

অধ্যাপক সালিমুল হক বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এখন বাংলাদেশের আছে। আমরা এখন আর শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের অসহায় শিকার নই। এখন সমস্যা সমাধানের মানসিকতাও বাংলাদেশের আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের জন্য একটি মডেল হয়ে উঠেছে।’

আইইউবি’র উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আইইউবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা ছাড়াও, অধ্যাপক ড. সালিমুল হকের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে ছিলেন। অনুষ্ঠানে ড. সালিমুল হকের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন এবং আইইউবি’র সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের ওপরে দুটি বিশেষ ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।