গল্প ও আড্ডায় সম্প্রীতির ইফতার 

শেষ বিকেলে সবুজ ঘাসের চাদরে বৃত্তাকার হয়ে বসে আছে ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী। বৃত্তের মাঝে বিছানো পত্রিকা। তাতে ছোলা, মুড়ি, পিঁয়াজু, বেগুনি আর আলুর চপ একসঙ্গে মেশানো। সবাই অপেক্ষায় রয়েছেন আজানের। ইফতার সামগ্রী খুব বেশি না হলেও সবার চোখে মুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ। সবাই মশগুল আড্ডায়। তবে কেউ কেউ শেষ মুহূর্তে শরবত বা অন্য সামগ্রী তৈরিতে বেশ ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। বারবার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ইফতারের ক্ষণ গণনা করছেন কেউ কেউ। আর মাত্র পাঁচ মিনিটের অপেক্ষা। সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে পড়ার সাথে সাথেই শুরু হবে ইফতার। 

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে এমন দৃশ্যের দেখা মিলল ঢাকা কলেজের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। প্রতিদিন বেলা গড়ার সাথে সাথে ইফতারকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস জুড়ে চলে উৎসবের আমেজ।

কলেজের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ছাড়াও টেনিস গ্রাউন্ড, বকুল চত্বর, বিজয় চত্বর, বিভিন্ন হলের ছাদ ও হল সংলগ্ন খেলার মাঠেও এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে ক্লান্ত তৃষ্ণার্ত শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বন্ধু সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে দলে দলে বিভক্ত হয়ে ইফতারের আয়োজন করে। পরিবারের সঙ্গে সেহরি ইফতার করতে না পারার কষ্ট তারা এভাবেই ভুলে থাকতে চায়। এই ক্ষুদ্র আয়োজনে চলে খুনসুটি আর আড্ডা। ইফতার আয়োজনে থাকে ছোলা, মুড়ি, পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ আর সঙ্গে থাকে শরবত এবং কলাসহ দু’ এক রকমের ফল। এর মধ্যেই সবাই খুঁজে পায় নির্মল আনন্দ এবং পরিতৃপ্তি। 

পুরো রমজান মাস জুড়ে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন থাকে চোখে পড়ার মতো। বন্ধু সহপাঠীদের আয়োজন ছাড়াও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জেলা ও অঞ্চলভিত্তিক সংগঠন এবং বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। এভাবে পুরো রমজান জুড়ে একের পর এক সংগঠনের ইফতার পার্টি চলতে থাকে। ক্লাস পরীক্ষা থাকায় অনেকে ইচ্ছে থাকলেও পরিবারের কাছে যেতে পারে না। আবার অনেকে আবাসিক হল খোলা থাকায় চাকরির পড়া বা বন্ধুদের সঙ্গে থেকে যায় হলে। রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান শাকুরী বলেন, 'ক্যাম্পাসের ইফতার মানেই আলাদা অভিজ্ঞতা। শেষ রাতে সবাইকে নিয়ে এক সঙ্গে বসে হলের ডাইনিংয়ে সেহরি খাওয়ার মাঝে থাকে অন্য রকম তৃপ্তি। ক্যাম্পাসে সবুজ ঘাসের ওপর পত্রিকা বিছিয়ে সহপাঠী বা বন্ধুদের নিয়ে ইফতার করলে সব ক্লান্তি যেন এক নিমিষেই দূর হয়ে যায়।

রোজা মুসলমানদের ধর্মীয় ইবাদত হলেও ইফতারকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেল বন্ধন সৃষ্টি হয়। এসব ইফতারে যোগ দেয় অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধু সহপাঠীরাও। বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বী হৃদয় পাল। তিনি বলেন, 'এ এক অসাধারণ অনুভূতি! বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার পার্টি খুব উপভোগ করি।'