রাজধানীতে কালবৈশাখী ঝড়

রাজধানী ঢাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে দমকা হাওয়ার সাথে বিদ্যুৎ চমকানো, বজ্রপাত ও বৃষ্টি শুরু হয়।

গত কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহের পর এই বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সকাল ৭টায় এই রিপোর্ট লেখার সময় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। এসময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৩ কিলোমিটার।

আবহাওয়াবিদ ও গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ইত্তেফাককে বলেন, ঢাকায় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, এই বছরের কালবৈশাখী মৌসুমের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী কলাবৈশাখি ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে রাত ৩টা থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত। ভারতের বিহার রাজ্য থেকে একটি শক্তিশালী কলাবৈশাখী ঝড় আজ ভোরে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে বাংলাদেশের প্রবেশ করে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে; একই সময় ভারতের মেঘালয় পর্বতের উপরে সৃষ্ট চলমান ঝড় রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত কলাবৈশশাখী ঝড়টির প্রভাবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে আগত কলাবৈশাখী ঝড়টি ঢাকা বিভাগের দিকে কিছুটা সরে আসবে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এমন পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানায়, দেশের আটটি জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস রয়েছে। এক্ষেত্রে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমে গিয়ে তাপপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে।

এই অবস্থায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং কুমিল্লা অঞ্চলসহ রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিজলী চমকানো ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।