রোজাদার জাগরণে ঐতিহ্যবাহী কাসিদা

কাসিদা ঢাকার একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। পবিত্র মাহে রমজানের রাতে সেহরি খাওয়ার জন্য রোজাদার জাগরণের জন্য এই কাসিদা পার্টি মুসলিম মহল্লাগুলোতে চলত। সাধারণত তরুণরাই কাসিদা দলে অংশ নিতেন। এতে একজন দলপতি থাকতেন। দলপতি কাসিদার মূল বক্তব্য পেশ করতেন আর সাথিরা সেটা বা অংশবিশেষকে বারবার আওড়াতেন কোরাস বা কাওয়ালী গানের মতো।

ঢাকার কাসিদার প্রচলন কখন থেকে আরম্ভ হয়েছিল তার কোনো নির্দিষ্ট দিন, তারিখ কেউ বলতে পারবেন না। তবে এটা মুঘল আমলের মধ্যভাগে তথা শায়েস্তা খাঁর আমল থেকেই হতে পারে। একথা ঠিক ঢাকার নবাবজাদা আব্দুল গনির আমলে পঞ্চায়েত ব্যবস্হা পুনর্গঠিত হয়ে মহল্লায়-মহল্লায় পঞ্চায়েত ঘর নির্মাণ বা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এই কাসিদা কাব্যের প্রসার ঘটে। নবাব আহ্সান উল্লাহ্র আমলে এর প্রসার আরো ঘটে। কাসিদা গানের দুটি পর্ব।

একটি চলে রমজান মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত। এতে রমজানের আগমনে আনন্দ ফজিলত এবং তাকে স্বাগত জানানো হয়। পরবর্তী তথা শেষ ১৫ দিন রজমানের বিদায়ের দুঃখ, বেদনা জড়িত ভারাক্রান্ত হূদয়ে রমজানের আলবিদা গাওয়া হয়। রজমানের শেষ পর্বে এক সময় কাসিদার প্রতিযোগিতা হতো ঢাকার নবাবদের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মহল্লায় ধর্মানুরাগী সংস্কৃতিকামী বিত্তশালীদের উদ্যোগে উত্সাহে। বিভিন্ন মহল্লায় এতে থাকত পুরস্কারের ব্যবস্হা। সেই প্রথা এখন টিকে আছে কোথাও কোথাও।

পুরোনো ঢাকার ভাট মসজিদের সামাদের কাসিদা দল, খাজে দেওয়ান কাসিদা দল, হোসনী দালানের দল, মিরপুরের কাসিদা দল, বকশীবাজারের জুম্মন মিয়ার দল, বংশালের কাসিদা দলসহ অন্যান্য কাসিদা দলগুলো কাসিদা গেয়ে থাকে। তবে দুঃখের বিষয় মোহাম্মদ আলী, জুম্মন মিয়া, কাসিদা রচয়িতা ও গায়ক মো. তালিব, মো. মহিউদ্দিন, মোহন এ গায়করা আজ আর বেঁচে নেই। কিন্তু কাসিদা প্রতিষ্ঠা লাভ করার জন্য তারা মৃতু্যর আগ পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছেন।