প্রচণ্ড দাবদাহে সিরাজগঞ্জে হাত পাখার কদর বেড়েছে। অধিকাংশ এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ গরমে তাড়নায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। প্রচণ্ড গরমে মাঝে মধ্যেই দেখা দিচ্ছে বিদ্যুতের আশা যাওয়ার লুকোচুরি। এর ফলে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে।
প্রচণ্ড গরমে প্রশান্তি পরশ দিতে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজার গুলোতে বিক্রি করছে বাহারি রকমের হাত পাখা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, তালের পাখা, সুতায় বুনানো পাখা, বিভিন্ন কাপড়ের তৈরি হাত পাখা। তাছাড়াও প্লাস্টিকের তৈরি পাখাও বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়িতের গৃহবধূরা তাল পাখা তৈরি করে থাকে। পাখা তৈরি কারক মোছা. সোনেকা বেগম জানায়, বইস্যা থাকার চায়া একটো বেছন (পাখা) বানাইয়া দিলে আমরা ৭/৮ টাকা মজুরী পাই। আর সুতার তৈরি পাখার মজুরী দেয়া হয় ১৫-২০ টাকা, আর বিক্রি হয় ৪০-৫০ টাকা।
হাত পাখা বিক্রেতা সালামের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাপ-দাদার ব্যবসা ধরে রেখে বিভিন্ন হাট-বাজারে হাত পাখা বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছেন অনেকেই। এদিকে বসে নেই হাত পাখা কারিগররাও। গরম শুরুর প্রথম থেকেই বেড়েছে হাত পাখা কারিগরদের ব্যস্ততা।
রায়গঞ্জের হাটপাঙ্গাসী বাজার নাহিদ নিউ মার্কেটের সামনে ফুটপাতে বসা এক বিক্রেতা জানান, প্রতিটি উপজেলায় আজ বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবার কারণে ঘরে ঘরে ঘুরছে আজ বিদ্যুৎ চালিত পাখা। তাই আমাদের পাখা বিক্রি আগের চেয়ে অনেকটাই কমে গেছে। তারপরও প্রচণ্ড গরমে পাখার চাহিদাও রয়েছে। বিশেষ করে বাস যাত্রী, হাটবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ও দরিদ্র শ্রেণীর মধ্যে এই পাখা ক্রয়ের চাহিদা বেশি।
প্রতিটি তালের হাতপাখা ৩০/৪০ টাকা বিক্রি হয় বলে জানায় পাখা বিক্রেতা সলিম মোল্লা। সে আরও জানায়, পাখা আগের মতো বিক্রি না হলেও বাপ-দাদার রেখে যাওয়া এই পেশা ধরে রেখে সংসার চালাতে হচ্ছে আমাদের মতো অসহায় গরীবদের।