বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার ওয়েবসাইটের আদলে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের অভিযোগে আরো দুজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলো— কামাল হোসেন ও আল আমিন। বুধবার রাতে তাদের মোহাম্মদপুর ও গাজীপুরের টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে সরকারবিরোধী অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করছে ছাত্রশিবির। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভুয়া নিউজ ছড়ানোর অভিযোগে কামাল ও আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী।
র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের ডোমেইন নামের মূল বানান থেকে ভুয়া পোর্টালগুলোর নামের বানানে সামান্য পার্থক্য আছে। ভুয়া এসব পোর্টালে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেই প্রতিবেদনগুলো তারা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার করে।
মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, আমরা যে দুজনকে গ্রেফতার করেছি, এদের সঙ্গে যারা আরো জড়িত, তাদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ধারায় যে অপরাধগুলো হয়েছে, এ আইনে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করব।
তিনি বলেন, এর আগে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরির অভিযোগে গত ২৫ নভেম্বর মোহাম্মাদ এনামুল হককে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হলে তার কাছ থেকে দেশি-বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের নামের সঙ্গে মিল রেখে নাম রাখা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন প্রচার ও ভুয়া সংবাদ প্রচারের তথ্য পাওয়া যায়। তিনি বলেন, গত আগস্ট মাসে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামে শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ভুয়া সংবাদ পরিবেশন করে কোমলমতি ছাত্রদের উসকে দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসতায় পরিণত করতে এই সমস্ত ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, কোনো পোস্ট ১ হাজারের বেশি ভিউ, লাইক বা শেয়ার হলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দেয় যা পরবর্তীতে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে ডোমেইনের স্বত্ব্বাধিকারী হিসেবে তারা পেয়ে থাকে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরির সাথে শিবিরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
এদিকে গতকাল র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেফতারকৃত দুজনের মধ্যে আল আমিন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্সে এবং কামাল কুমিল্লার নওয়াব ফয়েজুন্নেছা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিবিএ (ব্যবস্থাপনা) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত এনামুল দক্ষিণ কোরিয়ায় বসে বিবিসিসহ বিভিন্ন অনলাইনসহ ২২টি নিউজ পোর্টালের ওয়েবসাইট নকল করে পরিচালনা করতেন।