রাজধানীর গোপীবাগের একটি স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়তেন শারমিন। বখাটে যুবক সোহেল তাকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করতো। এক পর্যায়ে শারমিনের স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে শারমিনের মা থানায় একটি জিডি করেন। এ দফায় তারা মনে করেন যে, সোহেল আর উত্ত্যক্ত করবে না। আবারও স্কুলে যেতে শুরু করে শারমিন। আবারও উত্ত্যক্ত করতে থাকে সোহেল। এ দফায় শারমিনের মা থানায় গিয়ে আরো একটি জিডি করেন। শারমিনের মা সালমা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, দুই দফা জিডির পরও পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ার শেষ পর্যন্ত সেই বখাটের হাতে খুন হতে হয়েছে তার মেয়েকে। গত মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গোপীবাগে রেললাইনের পাশে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
শারমিনের মা অভিযোগ করেন, পুলিশ সোহেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তার পরিবারকে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে থাকে। তাদের সেই প্রস্তাবে রাজি না হলে তার বদলা হিসেবে শারমিনকে খুন করে সোহেল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শারমিনের মা বলেন, স্কুলে যাওয়ার পথে রেললাইনের পাশে সোহেল ডাব কাটা দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। গত বুধবার এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় সোহেলকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গোপীবাগ রেল লাইনের পাশে ছোট একটি পুরান বাড়িতে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ১৬ বছর ধরে ভাড়ায় বসবাস করছেন সালমা আক্তার। বছর দুয়েক আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর অন্যের বাড়িতে কাজ করে সালমা সংসারের খরচ যোগান। তার মায়ের স্বপ্ন ছিল, মেয়ে একদিন পড়াশুনা করে বড় চাকরি করবে। তখন আর কোনো কষ্ট থাকবে না।
ঘটনার সময় আশেপাশের লোকজন সোহেলকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। এ হত্যার ব্যাপারে সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।