বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে যারা গ্যাস, বিদ্যুতসহ জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিচ্ছে, তারা মূলত সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ প্রস্তাব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন।
শনিবার (২১ জুন) বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর এফবিসিসিআই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর সময় এখন নয়। কেননা করোনা মহামারির প্রভাব কাটিয়ে নানা প্রতিক’লতার মধ্যেও সবাই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় জ্বালানির দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতি ব্যাপকহারে বেড়ে যাবে। তাই এ সময় জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে বরং সরকারকে এ খাতে ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে কি না, এ সিদ্ধান্ত আসতে হবে রাজনৈতিকভাবে; আমলাদের থেকে নয়।
জসিম উদ্দিন বলেন, একসময় রেন্টাল, কুইক রেন্টালের প্রয়োজন ছিল। এখন আর তার প্রয়োজনীয়তা নেই। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করা উচিত। অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করা উচিত। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। সরকার সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সরকারের ভুল পরিকল্পনার খেসারত শিল্প খাত বহন করতে পারে না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হবে সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিদ্যুতের অতিরিক্ত উৎপাদন বন্ধ করে অহেতুক খরচ কমিয়ে আনা। প্রয়োজনে আরও ভর্তুকি দেওয়া দরকার।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার উল আলম বলেন, দেশে এখন ডলার সংকট চলছে।ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। এখন যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়, উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপর।
সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।